শ্লীলতাহানি বিতর্কে ফের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজভবনে মেয়েরা ভয়ে যেতে পারছে না, এমনই অভিযোগ আনলেন তিনি। পাশাপাশি সভামঞ্চে দাঁড়িয়েই রাজ্যপালের পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার আমডাঙায় ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিকের সমর্থনে ভোট প্রচারে যান মুখ্যমন্ত্রী।
সভা থেকেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে (CV Anand Bose) নিশানায় এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মেয়েরা রাজভবনে ভয়ে যেতে পারছে না। আমি সাংবিধানিক সংকটে পড়ে গিয়েছি। কারণ আমার প্রয়োজন হলে রাস্তায় কথা বলতে হবে। রাজভবনে ঢুকতে পারছি না।‘ রাজ্যপাল বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীকেও আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপালকে প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রতিনিধি’ বলেও কটাক্ষ করেন এবং মোদীর উদ্দেশ্যে দাবি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল রাজ্যপালকে পদত্যাগ করানোর।‘
শনিবারও এক সভা থেকে রাজ্যপাল ইস্যুতে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া সুরে আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাকে রাজভবনে ডাকলে আর যাব না। রাস্তায় দেখা করতে পারি। যা শুনছি, আপনার পাশে বসাও পাপ!’ ‘একজন মহিলার উপর অত্যাচার করার আপনি কে?’ এই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকালও রাজ্যপালের ইস্তফার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিন ব্যারাকপুরে নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভার পরই আমডাঙায় সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকারকে বাংলার কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, নির্বাচনের ফল সহ একাধিক ইস্যুতে তোপ দাগেন তিনি। বাংলায় এসে মোদী মিথ্যে কথা বলছেন বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘বিনা পয়সায় নাকি রেশন দিচ্ছেন উনি (নরেন্দ্র মোদী)। দু’বছরে এক টাকাও দেয়নি। ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৯ কোটি মানুষকে রেশন রাজ্য দেয়, উনি খালি ভাষণ দেন।’
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘আগে রাজ্যগুলো ট্যাক্স তুলতে পারত কিন্তু এখন একটাই ট্যাক্স জিএসটি। পাঁচ বছরে ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স তুলে নিয়ে গিয়েছে কিন্তু বাংলাকে এখনও ১ লক্ষ ৭৪ হাজার কোটি টাকা দেয়নি।‘ পাশাপাশি দুর্নীতি ইস্যুতেও বিজেপিকে পাল্টা নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

