মিলছে না চিকিৎসা । জেলাশাসকের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন ক্যান্সার আক্রান্ত মহম্মদ সুজাউদ্দিন ।টিউমার থেকে পায়ে মারণরোগ ক্যান্সার । চিকিৎসার জন্য বারবার ছুটছেন রাজ্যের পয়লা নম্বর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পিজিতে । কিন্তু ‘বেড নেই’ বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে দিচ্ছে তাঁকে । অবশেষে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন ক্যান্সার আক্রান্ত মহম্মদ সুজাউদ্দিন।
উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার নুরপুরের বাসিন্দা সুজাউদ্দিন । পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে । অসুস্থতার আগে তিনি ভ্যান চালাতেন । গত ছ’মাস ধরে সে কাজ পুরোপুরি বন্ধ । বাঁ পায়ে একটা টিউমার হয়েছিল । দিনে দিনে সেই টিউমার বেড়েই চলে । সন্দেহ হতেই একদিন বাবাকে নিয়ে সুজাউদ্দিন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছলেন ।
সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানিয়ে দিলেন, পায়ের টিউমার থেকে মারণরোগ ক্যান্সারের সংক্রমণ সুজাউদ্দিনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে । পায়ে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে । কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল, বেড খালি নেই । গত দেড় মাস ধরে সুজাউদ্দিন বারবার ছুটছেন রাজ্যের এক নম্বর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে । প্রত্যেকবারই ‘বেড নেই’ কথাটা শুনে বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে । সুজাউদ্দিন ভেবেছিলেন, সুস্থ হয়ে আবার সংসারের হাল ধরবেন । ফিরবেন জীবনের স্রোতে ।
দুর্নীতির দায়ে সিবিআই বা ইডি নেতা-মন্ত্রীদের তাড়া করলে চটজলদি তাঁরা ঢুকে পড়েন পিজি হাসপাতালে । পত্রপাঠ তাঁদের জন্য মিলে যায় বেডও । কিন্তু ক্যান্সার আক্রান্ত সুজাউদ্দিনের বেলায় তা হয় না । দেড় মাস ধরে ছুটে একটাও বেড পাওয়া যায় না । প্রশ্ন ঘোরে মৃত্যুপথযাত্রী যুবকের মুখে, ‘দেড় মাসে কি একটাও বেড খালি হয় না?’ উত্তর মেলে ‘না’ ।
বুধবার দুপুরে সুজাউদ্দিন বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দেগঙ্গা থেকে সটান হাজির জেলাশাসক শরৎ দ্বিবেদীর অফিসে । জেলাশাসককে তিনি লিখিত আবেদন করলেন, হয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন । না হলে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করুন । সুজাউদ্দিন বললেন, ‘চিকিৎসা না পেলে সংসারের বোঝা হয়ে বেঁচে থেকে কী লাভ! উপরওয়ালা নিশ্চয়ই আমার ছেলেমেয়েদের দেখবেন’।
অন্যদিকের বাবা মতিয়ার রহমান মোল্লা ধরা গলায় বলেন, ‘চোখের সামনে দেখছি, ছেলেটা চিকিৎসা পাচ্ছে না । আশা নিয়ে বারবার পিজি হাসপাতালে যাচ্ছি । বেড নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে । বাবা হয়ে ছেলের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না । তবু আজ জেলাশাসকের অফিসে এলাম সেই ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে । আমরা যে বড় অসহায়’ ।
জেলাশাসক কি সুজাউদ্দিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন? অথবা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর? জানা যায়নি । ক্যান্সার আক্রান্ত সুজাউদ্দিন হাতে গোছা ভরা চিকিৎসার কাগজ নিয়ে আবার দেগঙ্গার গ্রামে ফিরে গেলেন । প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে গেলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সাধের পিজি হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে। এক হাসপাতাল, তার দুই মুখ ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

