এআই প্রযুক্তিই নাকাল করল কমিশনকে! পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই করা হবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন

কথায় বলে শিক্ষার শেষ নেই । ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কর্তারা এবার এক ভিন্ন ধরনের শিক্ষা অর্জন করলেন ।

শিক্ষা অর্জন করলেন রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচন থেকে, যেখানে এআই টেকনোলজির মাধ্যমে ওয়েবকাস্টিং করা চলছিল ৯৮% বুথে । খুব স্বাভাবিক এই প্রযুক্তিই এই প্রথমবার ব্যবহার করছে দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন । তাই প্রথম দফায় ওয়েব কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তিই নাকাল করল কমিশনকে । কথা ছিল ওয়েব কাস্টিংয়ের সময় কোনও সমস্যা হলে বা কেউ ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে দিলে, ঢাকা দিয়ে দিলে বা বুথের মধ্যে যদি অতিরিক্ত লোকজন এসে পড়ে সে ক্ষেত্রে জানান দেবে এই প্রযুক্তি ।

এমনকি, একটি নির্দিষ্ট ডেসিবেলের ওপর আওয়াজ হলেও বাজবে অ্যালার্ম । সব ঠিকই ছিল, বাধ সাধল এই প্যারামিটার । আর তার সঙ্গে যুক্ত হল একই বুথ থেকে বারংবার অ্যালার্ম বেজে যাওয়া অর্থাৎ সাধারণ ভাবে আমরা যাকে ‘স্ন্যুজ মোড’ বলে থাকি । এই নিয়েই প্রথম দফায় সমস্যায় পড়ল কমিশন ।

কমিশন সূত্রে খবর, একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে । আর তার পরেই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে পদ্ধতির বদল আনতে চলেছে কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর । কমিশন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, একাধিক জায়গায় দেখা গিয়েছে একবার একটি সমস্যায় অ্যালার্ম বেজে যাওয়ার পর সেই বুথে যতক্ষণ না কুইক রেসপন্স টিম পৌঁছাচ্ছে বা সেই সমস্যার সুরাহা করা হচ্ছে ততক্ষণ একটি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বেজে যাচ্ছে অ্যালার্ম । অর্থাৎ অ্যালার্ম ‘স্ন্যুজ’ হয়ে যাচ্ছে । আর তাতে বিপত্তিতে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ।

আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে, গরমের থেকে বাঁচতে বা রোদের হাত থেকে বাঁচতে একসাথে দশ-পনেরোজন ভোটদাতা বুথের মধ্যে ঢুকে পড়ছেন । তবে তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে এক এক করেই ভোট দিচ্ছেন । কোনওরকম বিশৃঙ্খলা হচ্ছে না সেখানে । অথচ, বাজছে অ্যালার্ম । কারণ, কোনও বুথে দশজনের বেশি লোক ঢুকলেই সতর্ক হয়ে যাবে এই প্রযুক্তি । বেজে উঠবে অ্যালার্ম ।

আবার, কোথাও কমিশনের নির্দিষ্ট করা সত্তর ডেসিবেলের ওপর আওয়াজ উঠে গেলেও বেজে উঠছে অ্যালার্ম । স্বাভাবিক ভাবেই কোনও বুথে হঠাৎ করে কোন বাক বিতন্ডা শুরু হলে তড়িঘড়ি যাতে সেই বিষয়ে জানা যায় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেজন্য সেট করা হয়েছিল এই প্যারামিটার । তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাক বিতন্ডা নয়, অন্য কোনো কারণেও যদি কোনো শব্দের পরিমাপ সত্তর ডেসিবেলের বেশি হয়ে যায়, তাহলেও বেজে উঠছে অ্যালার্ম । আর এতেই রীতিমত সমস্যায় পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ।

স্থির করা হয়েছে পরিবর্তন করা হবে প্যারামিটারে । একদিকে, যেমন একবার অ্যালার্ম বেজে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার ওই বুথ থেকে একই সমস্যার কারণে অ্যালার্ম বাজার সময়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানো হবে, তেমনই বাড়ানো হবে বুথের মধ্যে কত মানুষ সর্বাধিক ঢুকতে পারবেন তার পরিসংখ্যানও । বাড়ানো হবে শব্দের ডেসিবেলের লিমিট । যাতে অহেতুক অ্যালার্ম বেজে না ওঠে । এর পাশাপাশি কমিশন এবার এই প্রযুক্তিতে আনছে নতুন একটি সেটিং । সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা বেজে গেলে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যাবে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সেই বুথে ভোট শেষ হয়েছে কি না বা আর কত জন লাইনের দাঁড়িয়ে আছেন ।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেই প্রথমবার এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিং করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন । সেই মর্মে এআইয়ের ব্যবহার কিভাবে করলে সুবিধাজনক হতে পারে, প্রথম দফার ভোট সেই অভিজ্ঞতাই দিয়ে গেল কমিশনের কর্তাদের । যদিও কমিশনের এক কর্তা জানাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ডে প্রত্যেক বুথের ভিতর এবং বাইরে দুই দিকেই ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল, যাতে লাগানো ছিল এই নতুন প্রযুক্তি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । তিনি জানান যেহেতু ঝাড়খন্ড একটি ছোট রাজ্য তাই তাঁদের পক্ষে এটা করা সম্ভব যা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সম্ভব নয় । এটা অনেক বড় রাজ্য এবং এখানে বুথের সংখ্যা অনেক বেশি । তবুও নিজেদের কাজে কোন রকম ত্রুটি রাখতে চান না পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের কর্তারা ।

সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এবার দ্বিতীয় দফার ভোট এআইয়ের ব্যবহারে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে চলেছে কমিশন যার ফলে নির্বাচন পরিচালনা করতে অনেকটাই সুবিধা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube