আচমকাই জ্ঞান হারান অন্তঃসত্ত্বা মহিলা । একই সঙ্গে আসতে থাকে খিঁচুনি । কুসংস্কারকে দূরে সরিয়ে তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা । রোগীকে ভেন্টিলেশনে রেখে করানো হয় প্রসব । চিকিৎসকদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেন মা ও শিশু ।
গত শনিবার বছর উনিশের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা আচমকাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন । অজ্ঞান অবস্থাতেই বারে বারে খিঁচুনি আসতে থাকে তাঁর । পরিবারের সদস্যরা সামাল দিতে না পেরে হাত পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন তাঁকে । সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের পাঠানখালির বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা ঐ গৃহবধূ আঞ্জুয়ারা মোল্লাকে ভূতে ধরেছে, জিনে ধরেছে বলে গ্রামের মধ্যে খবর রটতে শুরুও করে । অনেকেই আঞ্জুয়ারাকে ওঝা, গুণিনের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন । কিন্তু তাঁর মা সুফিয়া মোল্লা ও স্বামী রাকিবুল লস্কর সেসব কথায় কান না দিয়ে দ্রুত তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন । সেখানে আসতেই মাতৃমা বিভাগের চিকিৎসকরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন আঞ্জুয়ারার ।
আঞ্জুয়ারাকে হাসপাতালে যখন নিয়ে আসা হয় তখনও কোন জ্ঞান ছিল না তাঁর । এদিকে তাঁর বারে বারে খিঁচুনি আসছিল বলেও শোনা যায় । এই পরিস্থিতিতে তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছিলেন চিকিৎসকরা । দ্রুত তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয় । শরীরে দ্রুত অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকায় তাঁকে রাখা হয় ভেন্টিলেশন । কোনভাবেই রোগী শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার মত অবস্থায় ছিলেন না বলেই জানান চিকিৎসকরা ।
সেই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা মিলে পরিকল্পনা করেন রোগী স্থিতিশীল হলে তবেই সিজারের মাধ্যমে প্রসব করানো হবে । কিন্তু পরবর্তী ৮ ঘণ্টা কোনরকম জ্ঞান ফেরেনি রোগীর । সময়ের সাথে সাথে রোগীর অবস্থা সংকটজনক হচ্ছিল । তাই ওই অবস্থাতেই অপারেশান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । সকলের সহযোগিতায় সফল অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে একটি সুস্থ শিশুর প্রসব হয় ।
রোগীকে ভেন্টিলেশনে রেখে প্রসব করানোর ক্ষেত্রে বিপদ প্রচুর বলেই জানান চিকিৎসকরা ।এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে দশজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে । গর্ভস্থ সন্তানদের মধ্যেও অর্ধেক ক্ষেত্রেই মৃত্যু হয় শিশুর । এক্ষেত্রেও বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা ।
বর্তমানে মা ও সন্তান দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানা যায় । শুক্রবার সন্তানকে নিজের কোলে নিয়ে আদরও করেছেন আঞ্জুয়ারা । চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আঞ্জুয়ারা নিজেই এখন সন্তানের যাবতীয় খেয়াল রাখতে পারবেন । সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই তৎপরতায় যথেষ্ট খুশি রোগী ও রোগীর পরিবার পরিজনরা ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

