সভামঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুললেন প্রধানমন্ত্রী

ভাইবোন আপনারা সবাই এত বড় সংখ্যায় আশীর্বাদ দিতে এসেছেন আমাকে। আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ আপনারা এত বৃহৎ সংখ্যায় আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন। কিছুক্ষন আগে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রজেক্ট উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করার সৌভাগ্য হয়েছে। এর মধ্যে জল, পেট্রোলিয়াম, রেল ইত্যাদি যুক্ত। সকলকে আমি অভিনন্দন জানাই এর জন্য।।

পশ্চিমবঙ্গ হল বিপ্লবের কেন্দ্রস্থল। এখনকার বীর, বিপ্লবী সন্তানদের ইচ্ছা ছিল ভারত যাতে জগৎসভায় শ্রেষ্ট হয়। আজ ভারত সেই স্বপ্ন পূরণ করছে। বিগত ১০ বছরে ভারত ১১ তম ইকোনমির দেশ থেকে ৫ তম স্থানে উঠে এসেছে। জি ২০ তে কিভাবে ভারতের জয় জয়কার হয়েছে তা আমরা দেখেছি। চন্দ্রযান যা করেছে তা আর কোনও দেশ পারেনি। আমাদের সৌভাগ্য ৫০০ বছর পর প্রভু রামের ভব্য মন্দির হয়েছে। শ্রীরামের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের যে আস্থা তাতে সমগ্র দেশের মানুষ প্রভাবিত।

মা মাটি মানুষের ঢোল বাজানো তৃণমূল সন্দেশখালির বোনেদের সঙ্গে যা করেছে তা দেখে সমগ্র দেশ দুঃখিত। রাজা রামমোহন রায়ের আত্মা যেখানেই থাকুন তিনি আজ এই পরিস্থিতি দেখে কাঁদছেন। তৃণমূলের নেতা সন্দেশখালিতে মা, বোনদের উপর অত্যাচারের সব সীমা পার করে দিয়েছে। যখন এর বিরুদ্ধে মহিলারা আওয়াজ তুললেন, মুখ্যমন্ত্রী কাছে সাহায্য চাইলেন তখন বদলে তাঁরা কি পেলেন? মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত শক্তি লাগিয়ে দিলেন অপরাধীকে বাঁচাতে। বিজেপির নেতারা মা বোনদের জন্য লড়াই করেছেন। লাঠি খেয়েছেন। বিজেপির চাপে তৃণমূল বাধ্য হয়েছে তাকে গ্রেফতার করতে। তৃণমূল রাজত্বে তৃণমূলের এই নেতা ২ মাস উধাও ছিল। কেউ তো ছিল যারা একে আড়াল করে রেখেছিল। আপনারা কি এই তৃণমূলকে ক্ষমা করবেন? যাঁরা মা, বোনদের সঙ্গে এরকম করেছে তাদের বদলা নেবেন কিনা? সব হিসাব ভোটে হবে। আজ বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করছেন আপনার কাছে কিছু ভোটের মূল্য কি মা বোনদের কষ্টের থেকেও বেশি? ইন্ডি জোটের নেতাদের দেখে অমর সবচেয়ে কষ্ট হয়। এরা তিন বন্দরের মত চোখ, কান, মুখ বন্ধ রেখেছে। এরা পাটনা, ব্যাঙ্গালোর কোথায় কোথায় সভা করে। কিন্তু এরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইতে পারে না। এরা সন্দেশ খাকির মা, বোনদের দিকে তাকায়নি পর্যন্ত একবার।

কংগ্রেসের রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এসব তো চলতেই থাকে। এটা কি বাংলার অপমান নয়? এটাই কংগ্রেস এবং ইন্ডি জোটের সত্য। এদের জন্য ভ্রষ্ঠাচার, দুর্নীতি, তুষ্টিকরণ সবথেকে বড় কাজ। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ এবং দুর্নীতিতে এক নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে। তৃণমূল এখানে শিক্ষায় দুর্নীতি করেছে। তৃণমূল পুরসভায় দুর্নীতি করেছে। সরকারি জিনিস কেনায় দুর্নীতি করেছে, রেশনে দুর্নীতি করেছে। জমি দখল, চিটফান্ড, বর্ডারে পশু স্মাগলিং করেছে। কোনও ক্ষেত্র ছাড়েনি তারা। তাই তৃণমূল নেতাদের ঘর থেকে নোটের পাহাড় বেরোচ্ছে। আপনারা এর আগে দেখেছেন এমন? সিনেমাতেও দেখেননি। এখানে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রোখার জন্য নানা চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী অপরাধীকে বাঁচাতে ধর্ণা দিচ্ছেন। তৃণমূল চাইছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও দুর্নীতির করতে চায়। মোদী এটা হতে দেয়নি। তাই মোদীকে তৃণমূল ১ নং শত্রু মনে করে। আপনারাই বলুন আমি কি এটা হতে দিতে পারি? যদি আমি এদের বিরুদ্ধে লড়াই করি সেটা ঠিক কিনা?

ঝরিয়া, রানীগঞ্জ কোলফিল্ড প্রজেক্ট ৬ বছর আগে শুরু হয়। কিন্তু এই সরকার এটি এগোতে দিচ্ছে না। ১৮০০০ হাজার কোটি টাকার হলদিয়া এবং বোকারো পাইপলাইন প্রজেক্ট ৪ বছর ধরে পড়ে রয়েছে। তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর রেল প্রজেক্টের কাজ থমকে রয়েছে। ১০০০ কোটির বেশি প্রজেক্টের টাকা অনুমোদন কেন্দ্র দিয়েছে কিন্তু রাজ্য সরকারের জন্য হচ্ছে না। এমনকি বাড়িও হতে দিচ্ছে না। দেশ জুড়ে ৪ কোটির বেশি পাকা বাড়ি হয়েছে। পাকা বাড়িতে দিওয়ালি, হোলি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪৫ লাখ বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৪২ হাজার কোটি টাকা রিলিজ করা হয়েছে কিন্তু বাংলার রাজ্য সরকার ঘর বানাতে নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। গরীবদের ঘর হওয়া উচিত কিনা? তৃণমূল এগুলো বানাতে পারবে না। করলে বিজেপিই করবে। মোদীই করবে। হর ঘর জল পৌঁছানোর কাজ করছি আমরা। ৪ বছরে ১১ কোটির বেশি নতুন বাড়িতে জল সংযোগ পৌঁছে গেছে। কিন্তু প্রতি বাড়িতে জল পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার কচ্ছপের গতিতে এগোচ্ছে। যারা আপনার বাড়িতে জল পৌঁছে দিচ্ছেন না, তাদের দানা পানি বন্ধ করা উচিত। কেন্দ্র সরকার টাকা দিলেও ওরা সেটার উপর কাজ করছে না। গরীবদের ভালোর জন্য কাজ হচ্ছে না। আয়ুষ্মান কার্ডে দেশে কোটি কোটি পরিবারের বিনামূল্যে চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু গরীব, এসসি, এসটি বিরোধী তৃণমূল মানুষকে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে। পিএম কিষান সম্মান নিধিতেও বাধা দিচ্ছে। ছোট কৃষকদের একাউন্টে ১১ হাজার কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছে। তৃণমূলের লক্ষ্য এই টাকাও দুর্নীতি করার। কেন্দ্র সরকার গরীব, কৃষক, মহিলা সশক্তি করার ওপর জোর দিচ্ছে। বিজেপিই নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম করেছে। বাংলা বিকশিত হবে তবেই বিকশিত ভারত সম্পূর্ণ হবে।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube