ভোটের সময়ে মেলে শুধুই শুকনো প্রতিশ্রুতি! গ্রামে আজও অমিল পানীয় জল, রাস্তা

বছর ঘুরলেও কোনও পরিবর্তন হয় না তাঁদের পরিস্থিতির । নির্বাচনের সময়ে এক গুচ্ছ প্রতিশ্রুতিই সার । পুরুলিয়া জেলার বাইদটাঁড় গ্রামে এখনও নেই জল, পাকা রাস্তা । জল আনতে নিত্য দিন ঝর্ণার জল সংগ্রহ করতে হয় বাড়ির মহিলাদের । পাকা রাস্তার অভাবে গ্রামে ঢুকতে নারাজ অ্যাম্বুল্যান্সও ।

ভোট আসে- ভোট যায়, মেলে শুধুই শুকনো প্রতিশ্রুতি, কাজের কাজ কিছুই হয়নি । বর্তমানে দেশ স্বাধীনের ৭৭ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রামে এখনও অমিল নেই পানীয় জল এবং রাস্তা । সেই
প্রাগৈতিহাসিক জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা । এমনই ঘটনা ঘটে চলেছে পুরুলিয়া জেলার আরশা ব্লকের বাইদটাঁড় গ্রামের ।

সংবাদ মাধ্যমের পাতায় পাতায় দেশের স্বাধীনতার “অমৃতমহোৎসব”-এর রাশি রাশি খবর আর বিজ্ঞাপন ডিঙিয়ে আর ছ’টা মাস পরে স্বাধীনতার ৭৮ তম বছরে পা রাখতে চলেছে দেশ । অন্যদিকে ২০২৪-এ দেশজুড়ে হতে চলেছে অষ্টাদশ সাধারণ নির্বাচন । তবে জেলার আড়শা থানার বাইদটাঁড়ের মানুষদের সেই প্রাগৈতিহাসিক জীবনচর্যার কোন পরিবর্তন হয়নি । এলাকাবাসীর অন্ততঃ তেমনই অভিযোগ ।

তাঁরা অভিযোগ করছেন, ভোট আসে ভোট যায়, তাঁরা যেমন ছিলেন তেমনই থেকে যান, ভোট পেরলেই নাকি রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না এ তল্লাটে । ফলে যা হবার তাই হয়েছে । গ্রামে না আছে রাস্তাঘাট, না আছে পানীয় জলের ব্যবস্থা । এমনকি “দুয়ারে রেশন”-এর সামগ্রী নিতেও তাঁদের যেতে হয় জোড় (ছোট পাহাড়ি ঝর্না ) আঁকা বাঁকা রাস্তায় প্রায় দেড় কিমি দূরের তানাসিতে গ্রামে ।

প্রসঙ্গত, আড়শা থানার মিশিরটাঁড় গ্রামের একটি অংশ এই বাইদটাঁড় । মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা । গ্রামের ভেতর তো নেইই, গ্রাম পর্যন্ত যাওয়ারও কোন পথঘাট নেই । উঁচুনিচু পাথুরে জমি, আগাছা আর ছোট-বড় গাছগাছালির জঙ্গল ভেঙে যাতায়াত করতে হয় পানীয় জল সংগ্রহ করতে । প্রায় ১ কিলোমিটারের থেকেও কিছুটা দূরে বয়ে গিয়েছে পাহাড়ী ঝর্ণার জল, সেই ঝর্ণার মধ্যেই দু’ফুট ব্যাসের আর ৪ ফুট গভীর দাঁড়ি খুঁড়ে রাখা আছে বহুকাল আগে থেকেই ।

গ্রামের গৃহবধূরা জানালেন, তাঁরা শ্বশুরবাড়ি আসার পর থেকেই এই ঝর্নার পানীয় জল সংগ্রহ করে আসছেন; শুধু তারাই নন তাঁদের পূর্বসূরিরাও এই একই পরিস্থিতি পেরিয়ে এসেছেন । তাঁরা আরও জানান এতটা দূর থেকে প্রতিদিন পরিবারের প্রয়োজনীয় জল বইতে ভীষণ কষ্ট স্বীকার করতে হয় গ্রামের সকল মহিলাদেরই । শুধু তাই নয়, সারা বছর ধরে এই পাহাড়ি ঝর্ণার জল আনতে গিয়ে জঙ্গলের জন্তু জানোয়ারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেই নাকি মানুষকে পান করতে হয় জল । তার উপর বর্ষার দিনে হড়পাবানে কাদা জল, তখন ন্যুনতম জলটুকুও পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে ।

ভোটের আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী-কর্মীরা বারবার ছুটে ছুটে আসেন তাঁদের গ্রামে । প্রতিশ্রুতি দেন পানীয় জলের ব্যবস্থা করবেন, এলাকায় রাস্তাঘাট করে দেবেন । তবে ভোট পেরলে তাঁদের আর দেখা যায় না । ভুলেও এপথ মাড়ান না কেউই । গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে ডুলি বেঁধে রোগীকে দেড় কিমি দূরে তানাসি, আর তা না হলে ১ কিমি দূরে নুনিয়া গ্রামে নিয়ে যেতে হয় । তারপর সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় । গ্রামে পথঘাট নেই, তাই অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না ।

দুয়ারে রেশন নিতেও তাঁদের ছুটতে হয় তানাসি পর্যন্ত । সমস্যাগুলি নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা প্রশাসনিক দপ্তর সহ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরও বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা যায় । তবে কেবলমাত্র প্রতিশ্রুতি ছাড়া বাস্তবে জোটেনি কিছুই, দাবি এলাকাবাসীদের । প্রশাসনের প্রতিনিধিরা একবার রাস্তাঘাটের মাপঝোপ করেও গেছিলেন । তবে ওই পর্যন্তই, বাস্তবে হয়নি কিছুই । তবে এ বিষয়ে তৃণমূল পরিচালিত আড়ষা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বরূপ মাঝি এই গ্রামে সমস্যার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, “পানীয় জলের দ্রুত ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে”।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube