মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি ১ নম্বর ব্লকের আহিরণ গ্রাম পঞ্চায়েতের জলঙ্গপাড়া আলমপুর এলাকায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে । এই অভিযোগে কিছু দিন আগে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । বৃহস্পতিবার ফের সেই কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন । ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়ায় ব্যাপক উত্তেজনা ।
জলঙ্গপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে । বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সেই কাজ চলছিল বলে জানা যায় । কয়েকদিন আগে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে । বরাদ্দ টাকার সঠিক ব্যবহার ঠিকাদার করছে না । স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে যার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হয়ে গেলেও তা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাঁদের ।
কাজ শুরুর সময় থেকেই বিষয়টা নিয়ে ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে । কিন্তু, ঠিকাদার তাতে কর্ণপাত করেননি, বলেও উঠছে অভিযোগ । এই অভিযোগে কিছু দিন আগে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । বৃহস্পতিবার ফের সেই কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “ছাদ ঢালাই করা হচ্ছিল এদিন । কিন্তু, তার জন্য সঠিক নিয়ম মানা হয়নি । আমরাও রাজমিস্ত্রির কাজ করি । আমরা গিয়ে দেখি, নিম্নমানের ইট এবং ছাদ ঢালাই জন্য বিমে এবং ছাদে পাতলা রোড ব্যবহার করা হয়েছে, ঢালাই হয়েছে সিমেন্টের সাথে বালির মিশ্রণে বালির ভাগই বেশি । ভালো বালির বদলে সেখানে ধুলো বালি ব্যবহার করা হচ্ছে । এর আগেও আমরা এই কাজের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু, ওরা শোনেনি । এদিন ফের কাজ শুরু হলে আমরা গিয়ে বন্ধ করে দিই” ।
আহিরণ গ্রাম পঞ্চায়েতের জলঙ্গ পাড়ার বিজেপি সদস্য বলেন, “এক্ষুনি অভিযোগ পেলাম একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদ ঢালাই অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করা হচ্ছে । অবশ্যই আমি দেখব সিডিউল অনুযায়ী , এক নম্বর ইট বালি পাথর দিয়ে কাজ করতে হবে” । স্থানীয় বাসিন্দারা আরও দাবি করেন, “ভালোভাবে কাজ না হলে বিডিও ,এসডিও, ডি এম কে লিখিত অভিযোগ জমা দেব” । শেষমেষ রাস্তা অবরোধ করার ও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।
যদিও এই বিষয়ে ঠিকাদার জানিয়েছেন, “এলাকার কিছু যুবকেরা এই কাজের পারসেন্টেজ চাইছে আমার কাছে ।এই বিষয়টি আমি আহিরন ফাঁড়ির আইসি এবং বিডিও সাহেবকে জানিয়েছি । স্থানীয় দাবি অনুযায়ী, আমার সিডিউলের চেয়ে বেশি কাজ করতে হবে সেখানে তাই কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য দুই নম্বর ইটের ব্যবহার করছি । তারা বললে অবশ্যই আমি এক নম্বর ইটের ব্যবহার করব সেখানে” । এখন ভাবার বিষয়, একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হলে কতদিনই বা টেকসই হবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি?
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

