রাজ্য তোলপাড় করা খবরের শিরোনামে থাকা অনুপম সিনহা হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মনুয়া সিংহ রায় ৬ ঘণ্টার প্যারোলে বারাসাতে নিজের বাড়িতে আসলেন পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে।
দীর্ঘদিন জেলখানায় থাকার পর অবশেষে অনুপম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মনুয়া সিনহা প্যারোলে বাড়ি আসলেন। মাত্র ছ’ঘন্টার জন্য পরিবারের লোকের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি নিয়ে সোমবার প্রথমে বারাসাত থানায় আসেন মনুয়া। দুপুরেই বারাসাত থানা থেকে তার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। যদিও সংবাদ মাধ্যমের উপস্থিতি দেখেই মনুয়া তার মুখ ওড়না দিয়ে ঢেকে দেয়। একটিও কথা বলেননি সংবাদ মাধ্যমের সামনে। ২০১৭ সালে ২রা মে তার স্বামী অনুপম সিংহকে অজিত যখন বাড়ির ঘরের মধ্যে ঢুকে খুন করছিল তখন ওর ফোনে অনুপমের আর্তনাদ শুনেছিলেন মোনুয়া। সূত্রের খবর, মোনুয়া এখন জেলখানায় অনেক ভালো আচরণ করছেন সেই কারণে প্যারোলে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা মাফিক প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে খুন। খুনের পরেও বরাবর নিরুত্তাপ ছিলেন মনুয়া। হৃদয়পুরের অনুপম সিংহ হত্যা মামলায় স্ত্রী মনুয়া ও প্রেমিক অজিতের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেছিল বারাসত ফাস্ট ট্র্যাক আদালত।
বাবা-মা বাংলাদেশে থাকেন। ছেলে অনুপম সিনহা থাকতেন উত্তর চব্বিশ পরগনার হৃদয়পুরের সিংহভিলায়। ছিলেন ভ্রমণ সংস্থার কর্মী। বিয়ে করেছিলেন বারাসত পুরসভার অস্থায়ী কর্মী মনুয়া মজুমদারকে। তার দেড় বছরের মধ্যে ২০১৭ সালের ৩ মে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অনুপমের দেহ। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে মনুয়া ও প্রাক্তন প্রেমিক অজিতের নাম ।
হত্যাকাণ্ডের ১৩ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৫ই মে গ্রেফতার করা হয় মনুয়া ও অজিতকে। জেরায় পুলিশ জানতে পারে, ২মে দুপুর থেকে প্রেমিকের সঙ্গে সিংহভিলাতেই সময় কাটায় মনুয়া। বিকেলে মনুয়া বেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটে লুকিয়ে থাকে অজিত। মনুয়া ফোনে তাকে জানাতে থাকে অনুপমের গতিবিধি। গ্রিল কারখানার কর্মী অজিত লোহার রড নিয়ে তৈরি ছিল। অনুপম ফ্ল্যাটে ঢুকতেই রড দিয়ে মাথায় পরপর আঘাত করে। মনুয়ার কথামত ফোন করে মৃত্যুর সময়ের আর্তনাদ শোনায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে অনুপমের হাতের শিরা কেটে দিয়েছিল অজিত।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

