নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নজরে মতুয়া সম্প্রদায়

উত্তরবঙ্গ সফরে বেরিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । ১লা ফেব্রুয়ারি ফিরবেন কলকাতায় । আজ, বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের পালপাড়ায় পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদযাত্রা শেষে তিনি সড়কপথে শান্তিপুর রওনা হন। সেখানেই প্রশাসনিক সভা। প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে মমতার। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি কেমন চলছে, তারও খোঁজখবর নিতে পারেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের আগে শান্তিপুরের সভা থেকে একাধিক প্রকল্পের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে মতুয়াদের নিয়েও ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর ।

কিছুদিন আগেই শান্তনু ঠাকুর উসকে দিয়েছিলেন সিএএ প্রসঙ্গ । শান্তিপুরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “অনেকে বলেন, নির্বাচনের সময়ে মতুয়া। আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম না, ১৫ বছর ধরে বারবার ওঁর কাছে ছুটে গিয়েছি। ওঁর যত চিকিৎসা আমি নিজের টাকায় করেছি। আজ বড় বড় কথা। মতুয়া বিকাশ পর্ষদকেও ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরবাড়ির কাছাকাছি হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। বড়মার কাছে গিয়ে বঙ্গভিভূষণ নিজে তুলে দিয়ে এসেছিলাম। ঠাকুরনগরে ফুল মাণ্ডি তৈরি হচ্ছে, নতুন সাবস্টেশন হচ্ছে।” নির্বাচনের আগে মতুয়া ভোটের কথা মাথায় রেখেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার ।

লক্ষ্মী ভান্ডার, কন্যাশ্রী নিয়ে আশাবাদী মমতা । শান্তিপুরের জনসভায় এদিন বললেন, “হাবড়া, গাইঘাটায় কাজ হচ্ছে। কৃষক মারা গেলে, তাঁকেও ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কোটি কোটি মা বোনেরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন। সংখ্যালঘুরা ৩ কোটি ঐক্যশ্রী কন্যাশ্রী ৯৫ লক্ষ মেয়েরা পেয়েছে। শিক্ষাশ্রী প্রায় ৭৪ লক্ষ।”

একযোগে কেন্দ্রকে তোপ মমতার । বললেন, “বিনা পয়সায় রেশন আমরা দিই। নির্বাচনের আগে বিজেপি বলে, পাঁচ কেজি চাল দেব। আবার বলে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের স্কাই ওয়াক ভেঙে দেবে। আমার বুকের পাটা থাকতে আমি হাত দিতে দেব না।”

নদিয়ার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আমি গর্বিত নদিয়ার তাঁতশিল্পীদের জন্য। আমি যত শাড়ি পরি সব নদিয়ার। আমি নিজের হাতে এঁকে ডিজাইন করে দিই। কিন্তু যে তাঁতিরা আমাকে শাড়িগুলো বুনে দেয়। কখনও ধনেখালি, কখনও নদিয়া। এর কোনও তুলনা আছে, তুলনা নেই। আমি ক্ষমতায় এসে দেখলাম, মাত্র ৬ জন মসলিন তাঁতি বেঁচে রয়েছেন। সেই ৬ জনকে আমরা ৬০ জনের ট্রেনিং দিলাম। তারপর মসলিন তীর্থ তৈরি করলাম। আর এখন সেই মসলিন তীর্থ আপনাদের সবার নাম কেড়েছে।”

তাছাড়াও একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী । শান্তিপুরে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ৭৫৩ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। ‘জল স্বপ্ন’ প্রকল্পে ১১ লক্ষ ৮৬ হাজার বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানালেন মমতা। চার পাঁচ মাসের মধ্যে ৯ লক্ষ ২৯ হাজার বাড়িতে জল পৌঁছে গিয়েছে। আর ৫-৬ মাসে বাকিদের পৌঁছে যাবে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী । বললেন, নবদ্বীপকে ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে হেরিটেজ শহর করা হচ্ছে। কল্যাণীতে দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করে ব্রিজ হচ্ছে।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube