নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : ২২শে জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে রাজ্য জুড়ে পালিত হল সংহতি মিছিল । শহরের রাজপথে মিছিলে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। অন্যদিকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রী কর্তাদের নির্দেশে সংহতি মিছিলে পা মিলিয়েছেন অনেকেই । তবে রায়গঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের সংহতি মিছিলে দেখা গেল গেরুয়া রঙ, শোনা গেল জয় শ্রীরাম স্লোগান!
বিধায়কের এধরনের মিছিলকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর দাবি, “তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী বাস্তবকে অস্বীকার করে মিছিল করার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ যে তারা মানেন না, আজকের মিছিল তা প্রমান করে দিয়েছে।” বিধায়কের এই মিছিলের পর দলের নেতারা বেশ খানিকটা অস্বস্তিতে পড়েছেন। দল যে এই ধরনের মিছিলকে মেনে নেয় তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলা সহসভাপতি অরিন্দম সরকারের বক্তব্য তা পরিস্কার হয়েছে। মিছিল নিয়ে বিতর্ক হলেও সেটা আমল দিতে রাজী নন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী। তাঁর দাবি রাজ্যের ঐক্য এবং সংহতি বজায় রাখতেই দলনেত্রীর নির্দেশেই তিনি মিছিল করলেন। উল্লেখ্য, সোমবার অযোধ্যায় রাম মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং ভগবান রামের প্রান প্রতিষ্ঠা করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাম মন্দির উদ্বোধনের দিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সংহতি মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। রাজ্যের সমস্ত ব্লকে ব্লকে এই সংহতি মিছিল করবেন দলনেত্রী ঘোষনা করেছিলেন। দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী রায়গঞ্জ সুভাষগঞ্জ থেকে বিধায়কের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল হয়। মিছিলে ত্রনমুল কংগ্রেসের দলের পতাকার থেকে গেরুয়া পতাকা এবং রামের পতাকার সংখ্যাই ছিল বেশী। এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসে মিছিলে শোনা যায় জয় শ্রী রাম স্লোগান। বিধায়ক তাঁর অনুগামীদের নিয়ে মিছিল করলে সেই মিছিলে রায়গঞ্জ শহরে কোন নেতা অংশ নেন নি। বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানীর এই মিছিলের পর রায়গঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বেশ খানিকটা অস্বস্তিতে পড়েন। তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। সাংসদ জানিয়েছেন, “রায়গঞ্জের বিধায়কের দেরিতে বোধদয় হয়েছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে গেলেও দলনেত্রীর নির্দেশ যে বিধায়ক মানেন না আজকের মিছিল দেখে তা পরিস্কার হয়েছে।” বিধায়কের মিছিলকে মেনে নিতে পারেননি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব। দলের সহসভাপতি অরিন্দম সরকার জানিয়েছেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী বিধায়ক মিছিল করেন নি। তিনি দলের নির্দেশকে অমান্য করে তার মনমত মিছিল করেছেন। দলের সর্বচ্চ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন। দলের জেলা নেতৃত্ব বিধায়কের কাজে ক্ষুব্ধ হলেও তাকে আমল দিতে রাজী নন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী। বিধায়ক জানিয়েছেন, “দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে সংহতি মিছিল করলেন। এই মিছিলে মানুষের অংশগ্রহন স্বতঃস্ফূর্ত।”Latest posts by news_time (see all)
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

