সোমবার ছিল উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রামমন্দিরে রামলালার বিগ্রহে ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’র অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, একই দিনে বাংলায় একটি মিছিল করবেন তিনি। সেই মিছিল রাজনৈতিক মিছিল হবে না। ধর্মীয় মিছিলও হবে না। মমতা জানিয়েছিলেন, তাঁর মিছিলে সমস্ত ধর্মের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। মমতা নিজেও মিছিলে একই সঙ্গে মন্দির, মসজিদ, গির্জা এবং গুরুদ্বারে গিয়ে প্রার্থনা করেন। সংহতি মিছিলের মূল সভামঞ্চ পার্ক সার্কাস ময়দানে। সেখান থেকেই সংহতির বার্তা দেওয়ার কথা মমতার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সংহতি মিছিলে সামিল হয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ । বিকেল ৩টে ৫ মিনিট নাগাদ হাজরা মোড় থেকে শুরু করে বিকাল ৪.৪৫ নাগাদ পার্ক সার্কাস ময়দানে শেষ হয়। মোট প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তা ছিল এই মিছিলের।
বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুরা বক্তব্য রাখেন মিছিলে । সংহতি যাত্রার মঞ্চে নাখোদা মসজিদের ইমাম বললেন, ‘‘দেশে যখন ভেদাভেদের পরিবেশ, তখন মমতা একা বাঘিনীর মতো সংহতির কথা বলছেন। ঘৃণার পরিবেশে ভালবাসার স্তবক নিয়ে ঘুরছেন। সমস্ত ধর্মকে ভালবাসার যে পথ আপনি দেখিয়েছেন, তা একদিন আপনাদের দেশের শীর্ষে পৌঁছে দেবে’’।
তৃণমূল সুপ্রিমো কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে যারা দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক ভেঙে দেওয়ার ইস্যু টানলেন, বলেন, “যারা স্কাইওয়াক ভাঙার কথা বলে, তাঁরা আবার নিজেদের ধর্ম প্রবর্তক বলে!” মমতা বললেন, ভোটের আগে ধর্মের নামে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। বাংলাকেই এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। অযোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর খোঁচা, “ভোটের নামে দেশটাকে বিক্রি করছে কিছু লোক।” ইন্ডিয়া জোট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী । ইন্ডিয়া জোট নিয়ে বললেন, “‘ইন্ডিয়া’র নাম আমি দিয়েছি, অথচ বৈঠকে সম্মান পাই না। সিপিএম বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক নিয়ন্ত্রণ করে। আমি সেটা মানব না।” কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে আরও বললেন, “হিন্দু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে” ।
মিছিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “বাঙালি হিসাবে আজকের দিনটি আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের। গর্বের কারণ আজকের দিনে যখন সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মকে সামনে রেখে চোখ রাঙানো চলছে তখন আমার এই বাংলা আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সংহতি যাত্রা করছে। আমরা ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করি না। বাংলার মানুষকে নিপীড়িত করে রাখার একটা চক্রান্ত চলছে।” অভিষেক আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমি নিশ্চিত করেই আমার ধর্ম আমি পালন করবো, কিন্তু এটা আমি বাড়িতে পালন করব যখন কাছে সমান। ভোট ধর্মের নামে নয়, কর্মের নামে হবে। ২০২৪ এ আপনি যদি আপনার দাবিকে সামনে রেখে ভোট দেন, বাংলার দাবিকে সামনে রেখে ভোট দেন, তাহলে যত বড় নেতাই হোক না কেন, বাংলার দাবিকে কেউ বঞ্চনা করতে পারবে না। কোনো ধর্মের ভেদাভেদি নয়। আমাকে ধর্মের সার্টিফিকেট বিজেপির কাছ থেকে নিতে হবে না। আমার হিন্দু ধর্ম আমাকে কোনো বিভেদ শেখায় নি।”
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

