কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কিছুদিন আগেই লোকসভা ভোটের পূর্বে সিএএ আইন নিয়ে জল্পনা উস্কে দিয়েছিলেন । সিএএ হবে বলে এর আগেও বারংবার দাবি করছে বিজেপি। শান্তনুগড় বলে পরিচিত গাইঘাটার ডুমা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘সিএএ বিরোধী’ প্রচার করছেন বাগদার বিধায়ক তথা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস।
শনিবার তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ডুমা গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি যান এবং কেন্দ্রের বঞ্চনা ও সিএএ সম্পর্কে মানুষদের বোঝান। গ্রামবাসীদের তিনি বলেন, “পাঁচ বছর হয়ে গেল বিজেপি এখনও নাগরিকত্ব দিতে পারেনি। আপনাদের নাগরিকত্বের দরকার নেই। আপনাদের ভোটে সাংসদ হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। আপনারা সকলে নাগরিক। ভোট আসছে, এখন আবার বিজেপি নাগরিকত্বের কথা বলবে। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ” উল্লেখ্য বিশ্বজিৎ দাস বিজেপিতে থাকাকালীন সিএএ-র পক্ষে বেশ ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বারংবার ।
বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “অক্টোবর মাস থেকে আমরা বাড়ি বাড়ি কর্মসূচিতে আছি। মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনছি এবং মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর যে যে প্রকল্প তা মানুষ পাচ্ছেন কি না খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি কেউ কোন অসুবিধার জন্য না পেয়ে থাকেন তাহলে তা সরলীকরণ করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় দেখছি। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের সঙ্গে যে বঞ্চনা করছে সেটিও তুলে ধরছি। শান্তনু ঠাকুর এখানে ভোটের সময় বলেছিল নাগরিকত্ব দেবে। আজকে পাঁচ বছর হতে চলল এখনও দিতে পারেন নি। ভোটের সময় এসে আবার মিথ্যে কথা বলবে। যারা ভোট দিয়ে বিধায়ক, সাংসদ, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী করেছেন তাঁরা অবৈধ এটা হতে পারেনা। মুখ্যমন্ত্রী যে কথা বলেছিল আমরা সেইটা মানুষকে বলছি।”
প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের মুখে তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনীতির বাতাবরণ। চলছে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণের পালা। এসবের মধ্যেই বড় দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। আসন্ন লোকসভা ভোটের আগেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯ বা সিএএ লাগু হয়ে যাবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেছিলেন, “রুল ফ্রেম হয়ে গেলেই আমরা সিএএ লাগু করব। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে ভারতে সিএএ কার্যকর হয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, দিল্লিতে দ্বিতীয় মোদী সরকার গঠনের পরই ২০১৯ সালে এই নাগরকিত্ব সংশোধনী আইন পাশ করানো হয়েছিল। কিন্তু মাঝে বেশ কয়েকটি বছর কেটে গেলেও, সেই আইন এখনও কার্যকর হয়নি। কেন আইন এখনও কার্যকর হচ্ছে না তা নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা যেমন হয়েছে, তেমনই আমজনতার মধ্যেও কৌতুহল তৈরি হয়েছে বিস্তর।
মানুষের সেই কৌতুহলের বিষয়টি উস্কে দিয়ে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শান্তনু ঠাকুর বলেন, “সিএএ কার্যকর করতে কোনও অসুবিধা নেই। অনেকেই ব্য়াকুল হয়ে পড়ছেন যে কেন এটা এখনও লাগু হচ্ছে না। কিন্তু সিএএ শুধু এক-দুই বছরের সমস্যা নয়। এটি দীর্ঘ ৭৫ বছরের সমস্যা।”
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

