১০০ দিনের কাজের দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

রাজ্যে জব কার্ড ১০০ দিনের কাজের টাকা দূর্নীতির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ। কেন্দ্রের একজন, রাজ্যের একজন আধিকারিক ও সিএজির একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন নির্দেশ প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চের। কেন্দ্র ও রাজ্যকে যত দ্রুত সম্ভব এই আধিকারিকদের নাম জানাতে হবে নির্দেশ প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ। তারা গোটা রাজ্যে ভুয়ো জব কার্ড নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে। আগামী বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারি ফের শুনানি এই মামলার। ২০২৩ -২৪ অর্থবর্ষে যাতে নতুন করে কাজ চালু হয় তার জন্য একটা একশন প্ল্যান কেন্দ্র ও রাজ্যকে তৈরি করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলাকারি আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ক্ষেত মজদুর সংগঠনের তরফে বলেন –
“আমরা শ্রমিক। আমাদের পারিশ্রমিক নিয়ে কথা। আমরা কাজের আবেদন জানিয়েছি কিন্তু কাজ পাইনি।কেন্দ্র বা রাজ্য কারা দায়িত্ব নেবে সেটা তারাই ভাবুক কিন্তু তাদের দায়িত্ব শ্রমিকদের জন্য কাজ ও উপযুক্ত পারিশ্রমিলের ব্যাবস্থা করা। প্রধান বিচারপতি – বর্তমান পরিস্থিতি কি? যতই দূর্নীতি বা যা কিছু থাক।যারা প্রকৃত নিডি তাদের জন্য কি করা হয়েছে? কাউকে তো দায়িত্ব নিতে হবে?”

কেন্দ্রের তরফে আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী রাজ্য হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে দূর্নীতি /অনিয়ম হয়েছে। কেন্দ্র টাকা দেয়।পঞ্চায়েত লেভেলে সুপারভাইজার,নোডাল অফিসার নিয়োগ করে রাজ্য জেলা শাসকের নির্দেশে । তারাই এই টাকা বন্টন করে।কয়েক কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে ইতিমধ্যে। ২.৪৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। ৬.৩৫ কোটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছে রাজ্য। রাজ্যে রয়েছে ১.৫৫ কোটি জব কার্ড। কিন্তু তার মধ্যে কত গুলো আসল আর কত ভুয়ো সেটা দেখার দায়িত্ব রাজ্যের।”

বিল্লদল ভট্টাচার্য সিবিআইয়ের তরফে আইনজীবী জানান, “বিপুল দূর্নীতি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুরুলিয়াতে এই দূর্নীতি পাওয়া গেছে। আদালত যদি সিবিআইকে নির্দেশ দেয় তাহলে সিবিআই তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে পারে। সিবিআই প্রাথমিক ভাবে যে অনুসন্ধান করেছে কয়েকটি জায়গায় সেখানে বিপুল দুর্নীতি চোখে পড়েছে। বেশ কয়েকটি জেলায় এখনো অনুসন্ধান চলছে।”

শুভেন্দু অধিকারীর তরফের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার বলেন, “৫৮ জন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়েছিল । সেই টাকা পরে তারা রাজ্যের অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়েছে বলে জানিয়েছে।”

রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেছেন, “২০২১ সালে কেন্দ্রের একটা টিম এসেছিল মালদা এবং পাহাড়ে। তারা সন্তুষ্ট নয় বলে জানায় জব কার্ড নিয়ে। ২০২৩ এ কলকাতায় ১৫ টি টিম আসে। তারা ফিরে যাওয়ার পর রাজ্যের কাছে কিছু তথ্য চেয়ে পাঠায়। রাজ্যের তরফে সেগুলো পাঠানো হয়। তারপরে নতুন আর টাকা দেয়নি কেন্দ্র। একাধিক বার কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে যাতে নতুন করে এই প্রকল্প চালু করা হয়। নথি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে।”

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube