মুর্শিদাবাদ জেলার টাঙ্গাইল কোরিয়াল ও গরদ পেল জিআই তকমা ।বছরের শুরুতেই এমন খবরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি শাড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলেই । বহু পুরনো এই শাড়ি তার যোগ্য সম্মান পেতে উচ্ছ্বসিত সকলেই ।
মুর্শিদাবাদ জেলার শাড়ি শিল্পের জগতে নয়া মুকুট । নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের টাঙ্গাইল এবং মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমের কোরিয়াল ও গরদের শাড়ি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে । জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন পাওয়ার এই খবর দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বস্ত্রশিল্পীদের প্রত্যেককে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জের মির্জাপুরে এই কোরিয়াল ও গরদ শাড়ি তৈরি করে থাকেন বহু শিল্পীরা । এই গ্রামকেই মূলত বলা হয় গরদের কারখানা । এবছর এই টাঙ্গাইল শাড়ি এবং এই কোরিয়াল শাড়ি জিআই তকমা পেতেই এবার বিশ্ব দরবারে শাড়ির চাহিদা বাড়বে বলেই আশা করছেন শিল্পীরা ।
খবরটি পেয়েই মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের বস্ত্রশিল্পীরা ইতিমধ্যেই খুশি । গরদ শিল্পীর সাথে যুক্ত কর্মীরা জানিয়েছেন জিআই তকমা পেলে তাঁতিদের “আইপিয়ার” যেমন সুরক্ষিত থাকে তেমনই অন্যান্য জায়গার যারা ওই নির্দিষ্ট পণ্য তৈরি করে বিক্রি করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া যায় । এমনকি জিআই তকমা পাওয়ার পণ্যগুলির রপ্তানি বাজারে সুরক্ষিত থাকে ।
মূলত, সাদা সিল্কের সুতোকে বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে তা দিয়েই তৈরি হচ্ছে রঙিন জাকার্ড শাড়ি, যা গরদ শাড়ি নামেই পরিচিত । একটি রঙের সিঙ্গল জাকার্ড যেমন বিক্রি হচ্ছে, ঠিক একই ভাবে ডাবল রঙের জাকার্ডও কিনছেন ক্রেতারা । তার সঙ্গে এখন আবার যুক্ত হয়েছে থার্ড জাকার্ড । অর্থাৎ জাকার্ডের উপর তাঁতের ছোঁয়া । একটায় কাজ করা থাকছে পায়ের দিকে, আবার দ্বিতীয়টায় বডিতে হাকছে কাজ; এবং তৃতীয় ধরে থাকছে মিনার কাজ । এই ত্রিমুখী নকশার অভিনবত্ব নজরে ধরেছে আধুনিকাদেরও ।
তানা ও ভরণা এই দুই সুতোর মানের উপরই নির্ভর করে জাকার্ড শাড়ির দাম । তানার ভাল সুতো আসে বেঙ্গালুরু থেকে । কোরিয়ালে সাদা শাড়ির দুই দিকে ৫ থাকে ৭ ইঞ্চির পাড় । এই শাড়ি বুনতে দিন সাতেক সময় লাগে । রঙিন জাকার্ডেও লাগে প্রায় ৭-৮ দিন; ফলে তার দামও বেশি হয় । কিন্তু চাহিদা থাকলেও মির্জাপুরে এই শাড়ি বাজারে সীমিত সংখ্যায় মেলে । কারণ জাকার্ডের কারিগর হাতে গোনা কয়েকজন । একটা জাকার্ড শাড়ি বুনতে কম করে আট দিন সময় লাগে । সে কারণে চাহিদার সঙ্গে জোগানের তাল মেলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাঁত শিল্পীদের । এই গরদ শাড়ি শুধু এই রাজ্যে নয়, দিল্লি, মুম্বই, মহারাষ্ট্র সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে রওনা দেয় ।
শিল্পীদের কথায়, এবছর চাহিদা বেশ তুঙ্গে গরদ শাড়ি তৈরি করার জন্য । মূলত স্বর্ণচুরি, বালুচুরি সহ বিভিন্ন গরদ শাড়ি তৈরি করা হয়েছে। উন্নত মানের ক্লাষ্টার মেশিনে তৈরি করা হচ্ছে এই শাড়ি । এবছর জরিবনার চাহিদা তুঙ্গে । ৪২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে এই শাড়ি । শুধু তাই নয় বারো হাজার টাকা পর্যন্ত শাড়ি বিক্রি করা হয়ে থাকে । এছাড়াও স্বর্ণচুরি তৈরি করা হচ্ছে । একটি শাড়ি তৈরি করে মজুরি মেলে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা । মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের মির্জাপুরে এই গ্রামের গরদ শাড়ি তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

