গড়িয়ায় উদ্ধার তিন ব্যক্তির দেহ!

গড়িয়ায় তিন ব্যক্তির পচাগলা দেহ উদ্ধার । গড়িয়া স্টেশনের কাছে বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে । এই মুহূর্তে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনা স্থলে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে । এই মামলায় পুলিশের প্রাথমিক অনুমান তিনজন স্বামী-স্ত্রী এবং ছেলে আত্মহত্যা করেছেন । তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন তাঁরা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।

রাজপুর সোনারপুর পুরসভার পার্ক ৮৪ এর বহুতল আবাসনে ফ্ল্যাটের মধ্য থেকে তিনজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে । মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী ছেলে সুমন রাজ মৈত্র, তাঁর মা অপর্ণা মৈত্র ও ষাটোর্ধ্ব বাবা স্বপন মৈত্র । স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মূলত বাড়িতেই থাকতেন তাঁরা । সেরকম কোন কাজ করতেন না কেউই, এমনটাই দাবি করছেন প্রতিবেশীরা । জানা যাচ্ছে, ২৮ তারিখ পরিবারের সাথে শেষ কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের ।

বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ তাঁদের বাড়ি থেকে পচা গন্ধ পান স্থানীয় বাসিন্দারা । তারপর পুলিশকে খবর দেন তাঁরা । পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করেছে । ঘটনাস্থলে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ এসে দুপুর ১২ টা নাগাদ দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান তিনজনের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় । পুলিশ সূত্রে খবর ওই মৃতদেহগুলি আলাদা আলাদা ঘর থেকে পাওয়া গিয়েছে । পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান আর্থিক অনটনের কারণেই তারা তিনজনই আত্মহত্যা করেছে । যদিও ওই আত্মহত্যার কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয় । এই ঘটনা শুধু কি আত্মহত্যা না এর নেপথে অন্য কোন কারণ রয়েছে খতিয়ে দেখছে পুলিশ । ময়না তদন্তের জন্য দেহগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পুলিশ মর্গে ।

পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, ২৮ ডিসেম্বর মৃত সুমন রাজ মৈত্র ফেসবুকে দু’টি লাইভ করেন । ২১ মিনিটের লাইভ করে সুমন জানিয়েছেন, তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, অনেকেই তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন এই কথাও জানিয়েছেন তিনি । আরও বিভিন্ন কথা তিনি ওই লাইভের মাধ্যমে জানিয়েছেন ।

তার লাইভ দেখে এটা স্পষ্ট অনুমান করা যাচ্ছে তিনি ভয়ে আতঙ্কে এবং মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ।একই সঙ্গে তাঁর আর্থিক অনটন ছিল এমনই জানাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা । ৬ দিন আগে দুপুরে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেছেন – ‘আমি একটা ভিডিও দেখেছি ফেসবুকে সেটি দেখে আমাদের নিজেদের পরিবারের মধ্যে আলোচনা বা কমেন্ট হয় । আমায় দেখতে পেলেই মেরে দেবে বলছে । আমার একটা ছোট মামা আছে । তিনি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি আমাকে বলেছেন আমাকে এখান থেকে শিফট করে দেবে এই শিফট করার ব্যাপারটা সমস্যার সমাধান নয় । বেশ কিছুদিন হল এখানকার অনেক বাচ্চারা আমাকে, আমার বাবাকে ও আমার মাকে পাগল পাগল বলছে । আমরা খুব কষ্টে ভুগছি আমরা খুব ডিপ্রেশনে ভুগছি । এইভাবে থাকা যায় না তাই আমাদের একটা ডিসিশানে আসতে হবে । ইতিমধ্যে সেই ডিসিশন আমরা নিয়ে ফেলেছি ।

সুমন আরও বলেছেন – ‘আমি লাস্ট নয় বছর ধরে কারো সাথে কথা বলতে পারতাম না । আমি সত্যিই এক ঘরে হয়ে গেছিলাম । আমি রাজ্য সরকারকে একটা কথা জানাতে চাই । ম্যাডাম প্লিজ, একটু আমাদেরকে এখন দেখুন । খুব ডিপ্রেশনে ভুগছি । কিন্তু হাতের কাজের কাজ থাকুক বা না থাকুক..’ । অর্থাৎ রাজ্য সরকারের কাছে তিনি সাহায্য ভিক্ষাও করেছিলেন ।

সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট সামনে আসার পর পুলিশ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন এক্ষেত্রে ছেলেটি তাঁর মা-বাবাকে মেরে ফেলে তারপর তাঁদেরকে ঝুলিয়ে দিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেছেন নাকি তিনজনেই নিজে থেকে আত্মহত্যা করেছেন; না কি এই আত্মহত্যার পেছনে কারোর প্ররোচনা রয়েছে, সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা । এই ঘটনায় ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য । পুরো ঘটনা তদন্ত করছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube