বাড়ছে দূষণ, যার জেরে বিপর্যস্ত হচ্ছে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ময়দান । ময়দানের খোলা মাঠ বা গড়ের মাঠ যাকে বলা হয় “কলকাতার ফুসফুস” তা এখন দূষণের কবলে । গড়ের মাঠে নিজেকে সবুজের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে, প্রকৃতির সুন্দর রূপ উপভোগ করতে কিংবা শীতের মিঠে রোদ গায়ে মাখতে বা গরমকালে ঠান্ডা হাওয়ার স্বাদ পেতে অনেক মানুষই এখানে অবসর সময় কাটাতে আসেন ।
এখন সেই হাওয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘বিষ’। শীতকালে যেখানে এলে শোনা যেত পরিযায়ী পাখিদের কোলাহল সেখানে এখন চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিক আর থার্মকলের জিনিসপত্র । কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়ের তরফ থেকে গেজেট প্রকাশ করে প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও ২৫ ডিসেম্বর থেকে নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত অবাধে চলল প্লাস্টিকের ব্যবহার । আর তার প্রকৃত নিদর্শন হল কলকাতার গড়ের মাঠ ।
পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, এই যত্রতত্র পড়ে থাকা প্লাস্টিকের উপর যখন সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি এসে পড়ে তখন সেই প্লাস্টিকগুলো ছোট ছোট টুকরোতে ভেঙে যায় । তারপর এই ছোট ছোট প্লাস্টিকের টুকরোগুলো হাওয়ার সঙ্গে মিশে বায়ু দূষণ করে । এবং এই দূষিত বাতাস অক্সিজেনের মধ্যে দিয়ে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে । এই থেকে ভবিৎষতে মানব দেহে অনেক মারণ রোগ বাসা বাঁধতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে । এমনকি মারণ রোগ ক্যান্সার (বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যান্সার) হতে পারে এর ফলে ।
তবে শুধু মানব দেহ নয় এই দূষিত বাতাস যখন পশু-পাখিদের শরীরেও প্রবেশ করে তাদেরও শরীরে অনেক মারন রোগ বাসা বাঁধে । আর এই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে বাস্তুতন্ত্র থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে অনেক পশু-পাখি । শুধু প্লাস্টিক ব্যবহারে নয় অন্যদিকে থার্মোকলের ব্যবহারও ডেকে আনছে বড় বিপদ । কর্পোরেশনের থেকে আবর্জনারস্থূপে পড়ে থাকা এই প্লাস্টিক ও এই থার্মোকলগুলোকে পুড়িয়ে ফেলা হয় । এই বিষয়ে পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, থার্মোকল পোড়ানো অত্যন্ত বিপজ্জনক বাস্তুতন্ত্রের প্রতি । কারণ এটি কার্বন মনোক্সাইড এবং স্টাইরিন বাষ্প সহ বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে । “পলিস্টাইরিন, যা স্টাইরোফোম নামেও পরিচিত, ল্যান্ডফিলের জন্য একটি বড় বিপদ তৈরি করে। পশু-পাখি মানুষ ছাড়াও এই দূষিত বাতাস সমগ্র পরিবেশেরও ক্ষতি করছে । বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে । ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ জল শুকিয়ে যাচ্ছে । পার্বত্য অঞ্চলে বরফ গলিয়ে দিচ্ছে” জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা ।
১ লা জানুয়ারি ২০২৩, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশোধনী আইন অনুযায়ী, প্লাস্টিকের ব্যাগের পুরুত্ব ১২০ মাইক্রন করা হয়েছে । এছাড়াও ১২ ই আগস্ট ২০২১ সালে, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি গেজেট প্রকাশ করে বলা হয় প্লাস্টিকজাত সমস্ত দ্রব্যগুলির উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিতরণ, বিক্রয় এবং ব্যবহার ১লা জুলাই ২০২২ থেকে নিষিদ্ধকরণ করা হয় । তারপরেও কোথা থেকে আসছে এত প্লাস্টিক এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশবিদরা । সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে পরিবেশবিদদের তরফ থেকে । আনন্দ করতে গিয়ে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানুষ নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন, বলছেন পরিবেশবিদরা । সতর্ক হবার পরামর্শ দিচ্ছেন সবাইকে ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

