এবার গরিব মানুষদের জন্য দুঃখের খবর সামনে এল । একগুচ্ছ দাবিদাওয়া নিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে টানা রেশন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন । ধর্মঘটে সামিল হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এরাজ্যের ২০ হাজার ৩৭১ জন সহ সারা দেশের ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার রেশন ডিলার । নতুন বছরের শুরুতেই রেশন ডিলাররা ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । ভোগান্তির সম্মুখহেন হতে চলেছেন দেশের ৮০ কোটি ৩৫ লক্ষ রেশন উপভোক্তা ।
সকাল থেকেই ব্যাগ হাতে নিয়ে রেশন দোকানে আসছেন সাধারণ মানুষ তবে দোকান বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁদের । গ্রাহকদের দাবি, সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের । কী ভাবে সংসার চলবে এবারে সেই নিয়েও চিন্তিত অনেকেই । পাশাপাশি গ্রাহকরা এও জানাচ্ছেন সরকারের এই বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত । এই বিষয়ে ভেবে দরকার বলেই মত তাঁদের । রাজ্যে ২০২৬১ টি রেশন শপ রয়েছে তার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ১৭৮৬১ টি দোকান ।
অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস সপ ডিলার ফেডারেশন। পয়লা জানুয়ারি ছুটি থাকার কারণে দোসরা জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ধর্মঘট। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধর্মঘট চলবে। রিসেন্ট সামগ্রির বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি সহ রেশন ডিলারদের কমিশন ৫০ হাজার টাকা করার দাবি সহ আরও একাধিক দাবিতে তাদের এই ধর্মঘট কর্মসূচি ।
একাধিক দাবিতে ২০২৪ সালের প্রথম দিন থেকেই লাগাতার রেশন ধর্মঘটে যেতে চলেছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন । এর ফলে ভোগান্তির মুখে পড়বেন দেশের ৮০ কোটি ৩৫ লক্ষ রেশন উপভোক্তা । গরিব মানুষের ভরসা এই রেশন। বিনামূল্যে এবং কয়েকটি জিনিস কম দামে তাঁরা পেয়ে থাকেন । কিন্তু এই ধর্মঘট যদি হয় তাহলে তা কপালে ভাঁজ ফেলবে প্রান্তিক গরিব মানুষজনের ।
করোনা পরবর্তী সময় থেকেই দেশের রেশন ডিলাররা কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন । যদিও কোনও সমাধান হয়নি তার । রেশনে ১ কুইন্টাল চাল বা গম গ্রাহকদের হাতে তুলে দিয়ে ডিলাররা এখন ৯৫ টাকা কমিশন পান । অথচ বিভিন্ন কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, ৪৫৭ টাকা কমিশন করার কথা । তা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ রেশন ডিলাররা । এছাড়াও রেশন গ্রাহকদের ওপর নানাবিধ চাপ থাকেই । কিন্তু তাঁদের কথা সরকার শুনছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা ।
এইসব একগুচ্ছ দাবিদাওয়া নিয়ে এবার রেশন ডিলাররা ধর্মঘটের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । অন্যদিকে, রেশন ডিলারদের কোনও সুপারিশই কেন্দ্রীয় সরকার কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ । ই–পস (E-POS) মেশিনের স্টক নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের । প্রত্যেক মাসের শুরুতে বরাদ্দ তালিকা এই ই–পস পদ্ধতিতে তালিকা আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে । অথচ সেই তালিকা ডিলারদের কাছে পৌঁছতেই পারছে না । এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তর টানাপোড়েন চলছে । কারণ যে তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে আর ডিলাররা যা হাতে পাচ্ছেন তাতে বিস্তর গড়মিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে । এমনকী এই কারণে ডিলার–গ্রাহকের মধ্যে সম্পর্কও খারাপ হচ্ছে । এই নিয়ে বারংবার বললেও কোনও সমাধান হয়নি বলেই অভিযোগ রেশন ডিলারদের ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

