বন্ধ হাওড়া ফেরি সার্ভিস, ভোগান্তিতে নিত্য যাত্রীরা

অনেক দিন আগেই এই কথা উঠেছিল । বন্ধ হয়ে যেতে পারে হাওড়া ফেরি সার্ভিস । অবশেষে আজ মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হল হাওড়া ফেরি সার্ভিস । ১৯ শে ডিসেম্বর থেকে ২৪ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ এর কারণে বন্ধ থাকবে এই পরিষেবা । জানিয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতি ।

উল্লেখ্য, হুগলি নদী জলপথ পরিবহনের দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ভেসেলের রক্ষণাবেক্ষণ না হবার দরুন সেগুলি বাতিল হয়ে যায়। সূত্রে জানা যায়, হাওড়া থেকে সর্বশেষ ৭ টি ভেসেল দিয়ে চলছিল পরিষেবা ।

দফতর সূত্রে জানা গেছে রক্ষণা বেক্ষণের কারণে আপাতত পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২৪ শে ডিসেম্বর এর পরে কতগুলি ভেসেলের সার্ভে রিপোর্ট ঠিক থাকে তার ওপরেই নির্ভর করছে আগামী দিনে এই ঐতিহ্যবাহী পরিষেবা পুনরায় শুরু হবে নাকি তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে ।

আজ থেকে বন্ধ হাওড়ার ফেরি সার্ভিস । চরম বিপাকে নিত্য যাত্রীরা।

আজ অর্থাৎ ১৯ শে আগামী ডিসেম্বর থেকে ২৪ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত হাওড়া ফেরি ঘাট থেকে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকবে, এই মর্মে একটি নোটিশ ঝোলানো হয় ফেরি ঘাটের মূল প্রবেশ দ্বারে। বন্ধ টিকিট কাউন্টার। তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ফেরি ঘটে প্রবেশের দরজায়।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফেরি যাত্রীরা এই নোটিশ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, আগাম কোন নোটিশ না দিয়ে আচমকাই এই নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন । হাওড়া জেটি ঘাট থেকে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হওয়ার কারণে কেউ পায়ে হেঁটে হাওড়া ব্রিজ ধরে, কেউ বা, কেউবা শিপিং কর্পোরেশনের জেটি দিয়ে ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে কলকাতা অভিমুখে যাচ্ছেন।

সোমবার দফতর সূত্রে জানা যায়, রক্ষণাবেক্ষণ এর কারণে বন্ধ থাকবে এই পরিষেবা । সেই কারণে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতি ।

কিন্তু মূল সমস্যা কোথায়?

সূত্রের খবর, ছোট মাঝারি এবং বড় এই তিন রকমের তিন ধরনের লঞ্চ চলাচল করত ২৩টি সার্ভে না হওয়ার কারণে আটটি লঞ্চ স্ক্যান করার পরেই সেগুলোকে চলেছলের অযোগ্য বলে সেগুলোকে বাতিল করে দেওয়া হয়। লঞ্চের সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় পনেরোটা। যার মধ্যে হাওড়া জেটি থেকে সাতটা, নাজিরগঞ্জ থেকে তিনটে বাউরিয়া থেকে দুটি লঞ্চ চালানো হতো। সূত্রে এও জানা যায় হাওড়া থেকে যে লঞ্চগুলি চলছিল ১৮ই ডিসেম্বর তার সার্ভের মে য়াদ উত্তির্ণ হয়। এখন দেখার সেই লঞ্চগুলি আদৌ সার্ভে হয় নাকি স্ক্যানিয়ের পর সেগুলিও স্ক্র্যাপ পর্যায়ে পড়ে যাওয়ার কারণে বাতিল করা হয়।
যদি তেমনটা হয় তাহলে হাওড়া থেকে ফেরি সার্ভিস কতদিনের জন্য বন্ধ থাকবে সেটা প্রশ্ন চিহ্নের মুখে। সেক্ষেত্রে পরিবহন দফতর কী ভূমিকা নেয় তা দেখার।

এদিকে, হুগলী নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতির স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে এখন প্রায় ২৭০জন কর্মী রয়েছেন। এমনিতেই তাদের মাস মাহিনা নিয়ে প্রায়শই টানা পড়েন চলে, তাদের অভিযোগ এখনো বিগত অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের মাহিনা তারা পাননি। এর মধ্যে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হল। সে ক্ষেত্রে এই সকল কর্মীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্টই চিন্তিত।

উল্লেখ্য, হাওড়া জেটি থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। লঞ্চের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকায় অল্পসংখ্যক লঞ্চে এই সমস্ত যাত্রী বহন করে নিয়েই ফেরি পারাপার করত । যেখানে ছোট লঞ্চে দেড়শ জন এবং বড় লঞ্চে আড়াইশো জন যাত্রী নিয়ে পারাপারের ক্ষমতা, লঞ্চ সংখ্যা কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই সেই লঞ্চ গুলি যাতায়াত করতো। সুতরাং রুটি রুজির তাগিদে মানুষ কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গঙ্গা পারাপার করতে হতো। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে হাওড়া থেকে ঐতিহ্যবাহী ফেরি সার্ভিস আগামী দিনে সুষ্ঠু ভাবে জারি থাকে তা দেকার।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube