জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগেই সাঁতরাগাছি ঝিলে পরিযায়ী পাখির সমাহার দেখা যায় প্রতি বছর । পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, বিশেষত সাইবেরিয়া থেকে হাজার মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ কিছু স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে পরিযায়ী পাখির দল ।
প্রধানত শীতকালে সাইবেরিয়ায় অতিরিক্ত ঠান্ডায় পাখিরা ডিম পাড়লেও তা ঠান্ডার কারণে ফুটিয়ে তুলতে পারে না বলে সূত্রে জানা যায় । তাই ডিম পাড়ার পর তা থেকে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরির উপযোগী আবহাওয়া এবং স্থান হিসেবে সেইসব দেশের পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে সেখান থেকে চলে আসে এখানে । সাঁতরাগাছি ঝিল একটি বিশেষ প্রসিদ্ধ ও পছন্দের স্থান এই পরিযায়ী পাখিদের কাছে ।
জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ার আগেই অতীতে যে হারে পাখি আসত সাঁতরাগাছি ঝিলে, এবছর সেই তুলনায় খুবই স্বল্প সংখ্যায় হাজির হয়েছে পরিযায়ী পাখির দল । এখনও পর্যন্ত বড়জোর হাজার খানেকের কাছাকাছি পরিযায়ী পাখি সাঁতরাগাছির ঝিলে এখনও পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন ।
মূলত এই পাখিগুলোর মধ্যে যেমন রয়েছে দেশের পরিযায়ী পাখি, আবার রয়েছে কিছু হিমালয় অতিক্রম করে আসা পাখির দলও । যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বাঁশিওয়ালা হাঁস, গার্ডওয়াল, গার্গেনি প্রজাতির পাখি । স্থানীয় পক্ষীপ্রেমীদের দাবি দুর্গা পুজোর পর থেকেই এই পরিযায়ী পাখিদের আগমন শুরু হয় । অন্যান্য বছরের মতো এখনও বড় পাখির ঝাঁক না এলেও ডিসেম্বর মাস পড়ার পর থেকেই এদের আসা শুরু হওয়ার কথা ।
এছাড়াও নর্দান পিনটেইল , ফেরুগিনাস ডাক, কমন মুরহেন ডাক, ব্রঞ্জ- উইংড যাকানা, পার্পল হিরণ , ইন্ডিয়ান পন্ড হিরণ, ক্যাটল এগরেট , হোয়াইট – ব্রেস্টেড ওয়াটারহেন , হোয়াইট – থ্রোটেড কিংফিসার, সিট্রিন ওয়াগটেল, বার্ন সোয়ালো ইত্যাদি প্রজাতিও সাঁতরাগাছি ঝিলে দেখতে পাওয়া যায় । এবছর সেগুলি এখনও বিশেষ চোখে পড়ছেনা স্থানীয়দের ।
এই ঝিলে পাখি আসা কমতে থাকায় কারণ হিসেবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিলের একদিকে লাইন দিয়ে বসত বাড়ি, একাধারে তৈরি হয়েছে বহুতল । সেই সব বাড়ি ও বহুতলের নিকাশি ময়লা জল গিয়ে পড়ছে ঝিলে । যার ফলে জলে ক্রমশ দূষণ ছড়াচ্ছে । সেই সঙ্গে ঝিল ভরে যাচ্ছে কচুরি পানা ও আবর্জনায় । নেই উপযুক্ত সংস্কার । পাখিদের ডিম পাড়ার উপযোগী ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে । সেই আইল্যান্ড গুলো প্রায় নেই বললেই চলে । এছাড়াও নিরপত্তা কর্মী বিহীন অবস্থায় ঝিলে রয়েছে চোরা শিকারিদের হানা ।
সব মিলিয়ে পরিযায়ী পাখিরা ক্রমশ মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে এই ঝিল থেকে ।
এদিকে ঝিলকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং পরিযায়ী পাখিদের আগমন যাতে বজায় রাখা যায় সেই বিষয়ে প্রশাসন দৃষ্টি আকর্ষণের সাথেসাথে মানুষকেও সচেতন হবার আবেদন জানাচ্ছেন পক্ষী প্রেমীরা । ঝিলের পাড়ের কিছুটা অংশ বুজিয়ে সেখানে তৈরি করা হয়েছে শহীদ বেদী । যেগুলোতে উড়ছে শাসক থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের পতাকা । হাওড়া কর্পোরেশনের মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তি জানিয়েছেন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যেটুকু করণীয় তা করা হয় ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

