হলদিয়া বন্দরে শুরু হল শ্রমিক অসন্তোষ । যার জেরে কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা । বুধবার হলদিয়া বন্দরের বার্থে দাঁড়িয়ে থাকল জাহাজ ।
শ্রমিক অসন্তোষের জেরে প্রায় অচল হয়ে গেল হলদিয়া বন্দর । বার্থে বার্থে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক জাহাজ । ঘন্টায় ঘন্টায় বৈঠক করছেন বন্দরের আধিকারিকরা । তবে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত কোন বৈঠকে মেলেনি সুরাহা । বন্দর অচল থাকায় বিশাল অঙ্কের টাকা ক্ষতি হয়ে চলেছে বলে মত বন্দর কর্তৃপক্ষের একাংশের ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হলদিয়া বন্দরে মূলত দু’টি সংস্থাকে পণ্য পরিবহন সহ বন্দরের একাধিক কাজ করার বরাত দেওয়া হয়েছে । এই দুই বেসরকারি সংস্থার শ্রমিকরা মঙ্গলবার দুপুর থেকে কাজ বন্ধ করে দেন বলে জানা যাচ্ছে । ফলে মঙ্গলবার প্রায় চারটি বার্থে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকে । ২ বেসরকারি সংস্থার শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষকে মূল বেতন এক দেখানো হচ্ছে, কিন্তু তাঁদের দেওয়া হচ্ছে তার থেকে অনেকটাই কম বেতন । তাঁদের দাবি, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বন্দরে তাঁদের যা বেতন দেখানো হয় সেই হারেই বেতন দিতে হবে তাঁদের । কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁদের এই দাবি মানছেন ততদিন তাঁরা এই কর্মবিরতি পালন করবেন ।
চাকরি হারানোর ভয়ে ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে অনিচ্ছুক এক শ্রমিকের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বন্দরের কাছে তাঁদের মূল বেতন দেখানো হয়েছে ১৫ হাজার টাকা । কিন্তু তাঁদের পে স্লিপে দেখানো হয়েছে ৯৫০০ টাকা । ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন দেখানো হলে তাদের বেতন গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩২ হাজার টাকা । ডিসেম্বর মাসে বেতনের সঙ্গে পে স্লিপ আসতেই বিষয়টি নজরে আসে তাঁদের । আগে শ্রমিকদের ১৩০০ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ নেওয়া হত । বর্তমানে সংস্থা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১৮০০ টাকা নেয় । দু’টি সংস্থার শ্রমিকরা তাই একসাথে কর্মবিরতি পালন করছে ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দরের ভিতরে পণ্য ওঠানো নামানো অর্থাৎ পণ্য পরিবহন সহ একাধিক কাজ দেওয়া হয়েছে মূলত দু’টি সংস্থাকে । সেই সংস্থার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিতেই জাহাজ দাঁড়িয়ে যায় । মঙ্গলবার বিকেল থেকে এখনও পর্যন্ত ৪টি বার্থে জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে বলে খবর । ৪বি, ৮, ৯ ও ১৩ নম্বর বার্থে জাহাজ দাঁড়িয়ে রয়েছে । রাতে আরও জাহাজ এলে আরও বেশি প্রভাব পড়বে বন্দরে ।
হঠাৎ করেই শ্রমিক অসন্তোষ ফলে জাতীয় স্তরে হলদিয়া বন্দর সম্পর্কে খুব একটা ভালো বার্তা যাচ্ছে না বলে বন্দরের আধিকারিকদের একাংশের দাবি । বরাত প্রাপককারী দুই বেসরকারি সংস্থার সাথে ঘন্টায় ঘন্টায় বৈঠক করছেন বন্দর আধিকারিকরা । বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, দুই সংস্থার সাথে কথা বলেও মেটেনি সমস্যা ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

