মোহনবাগানের সোনার সংসারে হঠাৎই কালো মেঘ

।। গৌতম রায় ।।

দশ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে হয়েছিল ওড়িশা এফসির । এএফসি কাপের ম্যাচে পাঁচ গোল খাওয়ার পর বুধবার যুবভারতীতে আইএসএলের ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট । সেই রক্ষণের সমস্যায় দু’গলে পিছিয়ে পড়েছিল সবুজ মেরুন ব্রিগেড । বক্সের মধ্যে হাতে বল লাগিয়ে  ওড়িশাকে পেনাল্টি উপহার দিয়েছিলেন শুভাশিস বসু । আহমেদ জাহু কোনও ভুল করেননি ।

দ্বিতীয় গোল খাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশ্নের মুখে বাগান রক্ষণ । জাহু এদিন শুধু দু’টি গোল করেননি, মোহনবাগানকে সব চেয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন তিনিই । তবে  দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রে বিতর্কও রয়েছে । গোলের আগে সাহালের সঙ্গে সংঘর্ষ । রেফারি ফাউল দিতেই পারতেন । তাই ম্যাচের পর ফেরান্দর ডেপুটি ক্লিফোর্ড মিরান্ডার গলাতেও ঝরে পড়ল ক্ষোভ ।

আর্মান্দো সাদিকু দু’টি গোলই শোধ করে মান রক্ষা করেন । টুর্নামেন্টের প্রথম হার থেকে বাঁচান দলকে । প্রায় হারতে বসা ম্যাচে একেবারে ইঞ্জুরি টাইমে সমতা ফিরিয়ে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট এল । এই মুহূর্তে ওড়িশা এফসি দারুন ঝকঝকে টিম । তাঁদের বিরুদ্ধে এমন প্রত্যাবর্তনে হয়ত আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়ল, তবে লম্বা লিগে অনেক কিছুই মেরামত করতে হবে ফেরান্দোকে ।

তাঁকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন । প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা হতাশা  । কিন্তু বুধবার সেই আর্মান্দো সাদিকুই জোড়া গোল করে এক পয়েন্ট এনে দিলেন । যদিও এদিনও তিনি দু’টি সোনার সুযোগ নষ্ট করেন । একটি প্রথমার্ধে । আরেকটি দ্বিতীয়ার্ধে । এমন সোনার সুযোগ নষ্ট করে এদিনও খলনায়ক হতে বসেছিলেন, কিন্ত সেই তিনিই শেষ পর্যন্ত দলকে বাঁচিয়ে নায়ক । ম্যাচের পর সাদিকু জানান, সব সময়েই সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেন । কখনও সফল হন কখনও গোলের দেখা পান না । 

আর একজন – বিশাল কায়েথ । অনুমান ক্ষমতায় ঠিক সময়ে গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে কী দুরন্ত সেভ করলেন । ম্যাচের শেষ দিকে এই সেভটি না করলে সাদিকুর জোড়া গোল থাকলেও হত এক পয়েন্ট আসত না । তবে ক্লিফোর্ড দুরন্ত সেভের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেও জানিয়ে গেলেন পিছিয়ে পড়ার পর গোটা দলই প্রচণ্ড তাগিদ দেখিয়েছে ।

এবার কী হবে? স্বপের দল গড়েছে মোহনবাগান । কিন্তু সেই দলই এই মুহূর্তে চাপের প্রেসার কুকারে । না পারফরম্যান্সের জন্য নয়, চপ্ট আঘাতের দীর্ঘ তালিকায় রীতিমতো বেসামাল অবস্থা ।আসিক কুরুনিয়ান গোটা মরশুমের জন্যই ছিটকে গিয়েছেন । আনোয়ার কবে চোট সারিয়ে ফিরবেন, কেউ জানে না । চোটের কবলে দিমিত্রি, মনবীররাও । আর বুধবার ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে যেন ষোল কলা পূর্ণ হয়ে গেল । একটা ম্যাচেই চারজন বড় চোট  পেলেন । সাহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা, হুগো বুমোস আর গ্লেন মারটিন্স । বুমোস তো ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্ম আপের সময়েই চোট পেয়ে ম্যাচে খেলতেই পারলেন না । হুয়ান ফেরান্দোর মাথায় হাত ।প্রথম এগারোর মধ্যে আট জনের চোট । সব চেয়ে খারাপ অবস্থা সাহেলের । এখনই বোঝা যাচ্ছে না আঘাত কত বড় । মেডিক্যাল টিমের তত্বাবধানে আছেন, জানিয়ে গেলেন ক্লিফোর্ড ।

এত চোট আঘাতের সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ালেন কোচ হুয়ান ফেরান্দো । ম্যাচের পর মাথা গরম করে গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়েছিলেন দুই দলের কোচ ও ফুটবলাররা । তখনই রয় কৃষ্ণার সঙ্গে তর্কে জড়ান ফেরান্দো । উত্তপ্ত পরিস্থিতি । রেফারিকেও কটুক্তি করেন বাগান কোচ ।  ফলে তাঁকে লাল কার্ড দেখতে হয় । পরের ম্যাচে তিনিইও ত৫হাক্তে পারবেন না ডাগ আউটে । সোনার সংসারে হঠাৎই যেন ঘন কালো মেঘ ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube