জটিল রোগের অস্ত্রোপচারে নজির গড়ল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

জটিল রোগের অস্ত্রোপচার করে ফের নজির দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সরকারী চিকিৎসাকেন্দ্র বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের । পুরুলিয়ার কাশীপুরের ধোমডি গ্রামের বাসিন্দা, দুই সন্তানের মা বছর পঁয়ত্রিশের সুবেজান বিবির গলায় ছিল টিউমার । তিন সপ্তাহ আগে সেই টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার করে তাঁকে সুস্থ করে তুললেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা । এখন তাঁর বাড়ি ফিরে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র ।

রোগীর পরিবার সূত্রে খবর, প্রায় আট বছর ধরে গলার যন্ত্রণায় ভুগছিলেন সুবেজান বিবি । তাঁরা আরও জানান, কলকাতা ছাড়াও ভেলোরেও চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তিনি । তবে সেখানে চিকিৎসা করিয়েও সুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি রোগীর । পরে অতি সম্প্রতি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয় তাঁকে । বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারেই সাফল্য মেলে ।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মনোজ মুখার্জী এই বিরল ও জটিল রোগের বাখ্যা দিয়ে বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ওই মহিলা ‘ক্যারোটিড বডি টিউমারে’ আক্রান্ত । অর্থাৎ হৃদপিণ্ড থেকে যে ধমনী দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয় সেই ধমনীতে এক ধরণের টিউমার তৈরী হয়েছিল রোগীর ।

এই ধরণের টিউমার যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মত চিকিৎসকদের । এই ঘটনায় একদিকে যেমন রোগী মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে, অন্যদিকে বেঁচে ফিরলেও একদিকের অংশে প্যারালাইসিস হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে প্রবল । সেকারণে অনেক হাসপাতাল এই ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করতে চায়না । তিন সপ্তাহ আগে প্রায় চার ঘন্টার চেষ্টায় এই অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানা যায় । একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মনোজ মুখার্জী বলেন, কাজ করার ইচ্ছা থাকলে যে কোন পরিকাঠামোতেই করা যায়; আর সেটাই করে দেখিয়েছেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা ।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সুবেজান বিবির অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন বিভাগীয় প্রধান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সোমনাথ সাহা, ডাঃ তিতলি ব্যানার্জী, ডাঃ নীলাম্বর সহ অন্যান্যরা । এই অস্ত্রোপচারের মূল দায়িত্বে থাকা ই.এন.টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ সোমনাথ সাহা বলেন, আমরা বিশাল কিছু করেছি বলে মনে করছিনা, এটা একটা সাধারণ কাজ, আর সেই কাজ পুরো ‘টীম ওয়ার্কে’র মধ্যেই সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান ।

এই ঘটনায় খুশি ‘ভেলোর ফেরৎ’ রোগী সুবেজান বিবির পরিবারের লোকেরাও । তার ননদ আরজুন বিবি বলেন, গত আট বছর ধরে কলকাতা-ভেলোর ঘুরেও কোন কাজ হয়নি, অবশেষে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এসে রোগমুক্তি ঘটল । এই জন্য তিনি এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube