পটাশপুরের পঁচেটগড় রাজবাড়িতে শুরু হল রাস উৎসব

শুরু হয়ে গেল সুপ্রাচীন স্হাপত্যশৈলীর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের পঁচেটগড় রাজবাড়ির রাস উৎসব । রাজবাড়ির এই প্রায় ৪০০ বছরের রাস উৎসবকে ঘিরে সেজে উঠেছে রাজবাড়ি । রাস উৎসবকে ঘিরে মেতে উঠেছেন এলাকার মানুষজন । বহু দূর থেকে মানুষজন ভিড় জমাচ্ছেন এই রাস উৎসব ও রাজবাড়ি দেখবার জন্য ।

রাজ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পঁচেট গড়ের রাজবাড়ির বয়স প্রায় ৫০০ বছরের ও পুরনো । ওড়িশার আটগড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন কালামুরারী দাসমহাপাত্র । প্রথম জীবনে তিনি ভালোবাসার টানেই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সেতার বাজাতেন । জানা যায়, একবার পুরীর রাজা তাঁর সেতার শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে জগন্নাথ দেবের তুলসী সেবার দায়িত্ব দেন । এছাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকায় তুলসী গাছের চাষ ও তাঁর থাকার জন্য জায়গাও দেন তাঁকে ।

পরবর্তীকালে পুরীর মহারাজার অনুমোদনে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে বাংলা ও ওড়িশার বিভিন্ন বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেন । তাম্রলিপ্ত ও অন্যান্য বন্দর সফলভাবে পরিচালনার জন্য মোঘল সম্রাটরা তাঁকে পটাশপুর এলাকার দায়িত্ব দিয়ে জায়গাও প্রদান করেন বলে জানা গিয়েছে । 

পটাশপুর থেকে ওড়িশার জলেশ্বর পর্যন্ত এই বিশাল এলাকার দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রায় পাঁচশো বছর আগে খাড়ে প্রথম জমিদার বাড়ি তৈরি করেন । সেখানে পরিখা ও করেন তিনি । হঠাৎ তিনি একদিন খবর পান পঁচেটে একটি ঢিপির উপর একজনের গরু এসে দুধ দিয়ে চলে যায় । একদিন রাজা নিজে তা দেখতে যান এবং ওখানে তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করে ঢিপি কাটতে শুরু করেন । ওই ঢিপির ভিতর থেকে শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয় ।

ঢিপি খননের সময় শিবলিঙ্গে চোট লাগে কোদালের ; তারই প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে, তার চারদিকে আরও চারটি শিবমন্দির তৈরি করা হয় । মন্দিরের নাম হয় পঞ্চেশ্বর শিব মন্দির । ধীরে ধীরে পঞ্চেশ্বর থেকে এই জায়গার নাম হয় পঁচেট । পরবর্তী সময়ে খাড় থেকে তিনি পঁচেট গ্রামে এসে নতুন জমিদার বাড়ি তৈরি করেন, যা এখনও রাজবাড়ি নামেই বিখ্যাত ।

তবে এই রাজবাড়ির রাস উৎসবকে ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস । রাস উৎসব শুরু হয়েছিল প্রায় ৪০০ বছর আগে ।প্রথমে এই রাজ বাড়ির লোকেরা ছিল শৈব (শিবের ভক্ত)। সেই সময় একদিন পটাশপুরের উপর দিয়ে চৈতন্যদেব গিয়েছিলেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে । এই সময় তিনি বৈষ্ণব বিপ্লব করেছিলেন । সেই বৈষ্ণব বিপ্লবে রাজ বাড়ির লোকেরা শৈব থেকে বৈষ্ণব হয়ে যান । সেই থেকে শুরু হয় রাস মেলা যা এখনও পর্যন্ত চলে আসছে । রাজবাড়ির এই রাস উৎসব দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসেন বহু মানুষ । ১০ দিন ধরে চলবে এই রাসমেলা ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube