দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে জয়নগর থানা ঘেরাও বামেদের

গ্রামের মানুষদের বাড়ি জ্বালানোর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা অভিযুক্তদের গ্রেফতারির দাবি নিয়ে সোমবার জয়নগর থানা ঘেরাও কর্মসূচী নিলেন বাম নেতৃত্ব । গত ১৩ নভেম্বর কিছু দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সইফুদ্দিন লস্করের ; তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। এই ঘটনায় তোলপাড় হয়ে যায় বঙ্গের রাজ্য রাজনীতি ।

সোমবার বিকালে সিপিএমের বর্ষিয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কান্তি গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে কয়েক’শ বাম কর্মী সমর্থকরা জয়নগর থানা ঘেরাও করেন ।বামেদের পক্ষ থেকে দাবি, দলুয়াখাকিতে বাড়ি জ্বালানো ও লুঠপাটের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে । একই সঙ্গে সর্বস্বান্ত মানুষদের সমস্ত রকম ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকে । এছাড়াও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করের প্রকৃত খুনিকে গ্রেফতার করে কঠোরভাবে সাজা দিতে হবে বলেও এদিন দাবি করেন তাঁরা ।

এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা এমন খুনের ঘটনার নিন্দা করি । জয়নগরে যে তৃণমূল নেতা খুন হয়েছেন “সে মাফিয়া নেতা পুলিশের ডাক মাস্টার”। আজ তৃণমূলের নেতা, নেতৃত্বও নিরাপদ নন । পুলিশের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে । একটা ফোনকে কেন্দ্র করে গোটা গ্রাম পুড়িয়ে দিল দুষ্কৃতীরা । পুলিশ এখনও কেন চুপ করে রয়েছে? আমরা এসেছি পুলিশ যাতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়’।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর ভোর পাঁচটার সময় বাড়ি থেকে বেরোতেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সইফুদ্দিন লস্করের ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,পাঁচ জন দুষ্কৃতীর ছোড়া গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তাঁর শরীর । পালানোর সময় একজনকে ধরে ফেলেন ক্ষিপ্ত জনতা । অভিযোগ, গণপিটুনির জেরে মৃত্যু হয় সাহাবুদ্দিন লস্কর নামে ওই অভিযুক্তের । এরপর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের দলুয়াখাঁকি গ্রাম ।

গ্রামে প্রায় ২০-২৫ টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় হামলাকারীরা । শুধু আগুন নয়, ২০-২৫ টি বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে । এরপরও গোটা গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে যায় ।গ্রামের মহিলা ও শিশুরা আশ্রয় নেন দক্ষিণ বারাসাতের সিপিএমের দলীয় কার্যালয় । গ্রামবাসীদের আভিযোগ তৃনমূল নেতা সাইফুদ্দিন লস্করের খুনের ঘটনায় পর গ্রামের মধ্যে থাকা সিপিএম কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালানোর পাশাপাশি আগুন লাগায় হামলাকরীরা ।

এরপর কেটে গিয়েছে কয়েকটা দিন । ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে গ্রাম । এরপর গ্রামের অসহায় মানুষদের সাহায্য জন্য এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল । গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম । কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের গ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সামগ্রী বিতরণ করা হয় । দলুয়াখাকিতে বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জয়নগর থানার পুলিশ । কিন্তু এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube