৭৫তম বর্ষে মুর্শিদাবাদের ভট্টাচার্য পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো

মঙ্গলবার জগদ্ধাত্রী পুজো চলছে বিভিন্ন জেলায় । মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি শহরের রঘুনাথপুরের ভট্টাচার্য পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো এবছর ৭৫তম বর্ষে পদার্পণ করল । সপ্তমী তিথিতে নিয়ম মেনেই চলল কুমারী পুজো ।

শুধুমাত্র চন্দননগর বা কৃষ্ণনগর নয় । মুর্শিদাবাদের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু প্রাচীন জগদ্ধাত্রী পুজো । দেশ স্বাধীনতা লাভ করার পরেই স্বর্গীয় শিরীশ চন্দ্র ভট্টাচার্য এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । নিজের পরিবারের ঐক্যতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য ১৯৪৮ সালে প্রথমবার আয়োজন করা হয় এই জগদ্ধাত্রী পুজোর ।

কার্তিক মাসের শুক্লাপক্ষের নবমী তিথিতে ঘট স্হাপন করে এই পুজোর প্রথম প্রতিষ্ঠা করা হয় । এখানে এক দিনেই চলে জগদ্ধাত্রী পুজোর আরাধনা । দেবীর সঙ্গে এখানে জয়া, বিজয়া, নারদ ঋষি, করিন্দাশুর সহ অষ্টশক্তি ভৈরব ও নীলকন্ঠ শীবের পুজো করা হয় । এমনকি সপ্তমীতে ও নবমীতে কুমারী পুজোর আয়োজনও করা হয় ।একই সঙ্গে চলে হোম যজ্ঞ । পরিবারের সদস্যরা মূলত পৌরহিত্য করে পুজো পরিচালনা করেন । নবমীর দিনে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পুজো করা হয় । পরের দিন দশমী পুজো হয় ।

জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে পরিবারের সকল সদস্যরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে এখানে একত্রিত হন । অংশগ্রহণ করেন বাড়ির পুজোতে । পাশাপাশি, পুজোকে কেন্দ্র করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন সকলেই ।

শাস্ত্র জানাচ্ছে,  দেবী জগদ্ধাত্রীর রূপ উজ্জ্বল । তাঁর তিনটি চোখ, চারটি হাত রয়েছে । তাঁর চার হাতে শঙ্খ, ধনুক, তীর এবং চক্র থাকে । শঙ্খ শব্দের প্রতীক, শব্দই নাদ, আর নাদই ব্রহ্ম । দেবী বাক্ রূপেও নিজেকে প্রকাশ করেন । দেবীর হাতের ধনুকটি হল অসীম চৈতন্যশক্তির প্রতীক । সেই চেতনা যখন ক্রিয়াশীল হয় তখন মানুষের লক্ষ্য হয় প্রাপ্তি– যশ-অর্থ-মোক্ষ! এই প্রাপ্তির শেষ নেই । সেই প্রাপ্তির দিকে তাকিয়েই থাকে তীর বা বাণ । ধনুকের ছিলাটিও প্রতীকী । এটি জগজ্জননী বিঁধে দেন সাধুজনের অন্তরে ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube