“জন্মদিন” আর “কালাদিবস”-এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুরুলিয়া

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : একদিকে জন্মদিন আর অন্যদিকে কালা দিবস । এরই মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে পুরুলিয়া জেলা । বুধবার এক পক্ষ যখন পুরুলিয়া জেলার ৬৮ তম জন্মদিন পালন করছেন, অন্যদিকে তখনই আদিবাসী কুড়মি সমাজের ডাকে দিনটিকে “কালাদিবস” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ।

প্রসঙ্গত, আজ, বুধবার পুরুলিয়া জেলার বঙ্গ ভুক্তির ৬৮ তম বর্ষ পূর্তি । ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন সাবেক মানভূম জেলাকে ত্রিখন্ডিত করা হয় । ১৬ টি থানা নিয়ে পুরুলিয়া জেলা গঠন করে বাংলার অন্তর্ভুক্ত করা হয় পুরুলিয়াকে । উল্লেখ্য, ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ শাসক পঞ্চম জর্জ কলকাতা থেকে দিল্লীতে রাজধানী স্থানান্তর করার সময় বঙ্গভঙ্গ রদ করেন এবং সাবেক মানভূম জেলাকে বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করেন । ঘটনার প্রতিবাদে মানভূম জেলাজুড়ে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার এক কালজয়ী আন্দোলন শুরু হয় । বিশ্বের ইতিহাসে যা কার্যত প্রথম ভাষা আন্দোলন বলে উল্লেখিত।

মূলত লোক সেবক সংঘের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর মানভূমের ১৬ টি থানাকে নিয়ে গঠিত জেলা পুরুলিয়াকে পুনরায় বাংলার অন্তর্ভুক্ত করা হয় । তখন থেকেই প্রতি বছর এই দিনটিকে জেলাজুড়ে পুরুলিয়ার জন্মদিবস হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ।

সরকারি, আধাসরকারি, সরকার পোষিত থেকে শুরু করে বহু বেসরকারি সংস্থা ও নানান সামাজিক সংগঠন বিবিধ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটিকে গুরুত্ব সহকারে পালন করে আসছে। বিগত বছরগুলির মত এবছরও পুরুলিয়া পৌরসভার তরফে পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি জানান, ভাষা আন্দোলনের পীঠস্থান শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শিল্পাশ্রমের আবাসিকদের বিশেষ সম্বর্ধনা দেওয়া হয় । লোক সেবক সংঘের পুরুলিয়া জেলা নেতা সুশীল মাহাতো শিল্পাশ্রমের এদিনের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে বলেন, পুরুলিয়ার বঙ্গভুক্তি হলেও সাবেক মানভূমের একটা বড় অংশের মানুষ এখনও মাতৃভাষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন । তাদের অধিকার তাঁদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে । অনুষ্ঠানে পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মানভূমের ভাষা আন্দোলনে লোক সেবক সংঘ ও শিল্পাশ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম । তাই প্রতি বছর এই দিনটিতে পৌরসভার তরফে এখানের আবাসিকদের বিশেষ সম্মান জানানো হয়। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের অধীনস্ত জল জীবন মিশনের তত্বাবধানে পুরুলিয়ার জন্মদিবসের এই দিনটিকে স্মরণ করতে কেক কাটা হয়। কেক কাটেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত।

অন্যদিকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের তরফে এদিন কালো ব্যাচ পরে ও কালো পতাকা সহ কালা দিবসের মিছিল করার পাশাপাশি জেলা শাসক দফতরের সামনে জন্মদিবসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কুড়মি সমাজের মূল খুঁটি অজিত প্রসাদ মাহাতো বলেন, ব্রিটিশরা যেমন দেশবাসীকে দমিয়ে রাখতে ভারতে উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল, সেসময় বাঙালিরাও ঠিক তেমনিভাবে পুরুলিয়ায় নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তুলতে ষড়যন্ত্র করে পুরুলিয়ার বঙ্গভুক্তির ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাবেক মানভূমের কুড়মি, আদিবাসী, জনজাতি সহ মূল নিবাসীদের দমিয়ে রাখতেই এটা বাঙালিদের চক্রান্ত । তাই পুরুলিয়ার বঙ্গভুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দিনটিকে তাঁরা কালা দিবস হিসেবে পালন করে প্রশাসনিক দফতরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন বলে জানান অজিত প্রসাদ মাহাতো ।

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube