শারদোৎসবের আনন্দেও ভাঙনের আতঙ্ক

শারদীয়ার উৎসব আনন্দে যখন মেতে উঠেছে বাঙালি, ঠিক তখনই নদীর ভাঙনের আতঙ্কের স্পষ্ট ছাপ দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের কয়েকশো গ্রামবাসীর দু’চোখে ।

ভাঙ্গনের গ্রাসে পরে চোখের সামনেই দিন কয়েকের ব্যাবধানেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে আস্ত ICDS কেন্দ্র, নদী পাড়ের বসত বাড়ি । তার নিশ্চিত পরিণতি দেখেই রাতের ঘুম ছুটছে গ্রামবাসীদের । কেননা গত কয়েকদিন ধরেই ক্রমাগত ভেঙে চলেছে নদীর পাড় । ভাঙন আতঙ্কে ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে দিন কাটছে কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনগ্রামের গ্রামবাসীদের ।

তাঁদের অভিযোগে এখনও নির্বিকার পঞ্চায়েত । কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের নতুন গ্রাম । দুই দিকে ভাগীরথী নদী ও একদিকে বাবলা নদী বয়ে চলেছে । এবছরের বর্ষায় প্রবল বৃষ্টি ও বিভিন্ন ড্যাম থেকে জল ছাড়ায় জলস্তর বেড়ে এক হয়ে গিয়েছে দুই নদী । এই কারণেই গত দেড় মাস ধরেই কমবেশী চলছে ভাগীরথী নদীর ভাঙন; যা মারাত্মক ভাঙনের আকার ধারণ করে কয়েক সপ্তাহ আগে ।

ভাঙনের গ্রাসে এলাকার ১১১ নম্বর ICDS কেন্দ্রটিও । যা এক সময় নদী থেকে দূরত্বে থাকলেও এখন ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুলছে শূন্যে । এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের একাংশের নীচে নেই মাটি । সিমেন্টের বাঁধানো শানে লেগে ঝুলছে নদীতে । যে কোন মহূর্ত্বে নদীতে তলিয়ে যাবে এই ICDS কেন্দ্রটি । বিপদজনক এই কেন্দ্রে শিশুদের পড়তে পাঠায় না অভিভাবকেরা । শুধু মাত্র সময় মতো রান্না করা খাবার নিতেই বড়দের সঙ্গে হাজির হয় ক্ষুদে পড়ুয়ারা ।

পাশাপাশি এই গ্রামের ভাগীরথী নদী পারে রয়েছে বহু পরিবারের বাস; অতীতে যাদের ঘর বাড়ি বা কোন কোন পরিবারে বাড়ির একাংশ ভাঙনের গ্রাসে তলিয়ে গেছে নদীতে । এই ভাঙনে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু নদীর গ্রাসে যাওয়ার আতঙ্কে দিনরাত কাটছে তাদের । সম্প্রতি ভাঙন শুরু হওয়ায় বহু বাড়িতে ফাটল ধরেছে । যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে । এই সমস্ত পরিবারের কথায়, রাতে ঘুমাতে গিয়ে ভাঙনের কবলে নদীতে তলিয়ে সকালে বেঁচে থাকব কিনা আমরা জানি না ।

গ্রামবাসীরা জানান, প্রতি বছর বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে ভাঙ্গন শুরু হয় । আগে বহু পরিবারের ঘর বাড়ি, জমি চলে গেছে নদীতে । ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবার আজ গ্রামছাড়া । গ্রামের অবশিষ্ট আর বছর কয়েকের মধ্যেই তলিয়ে যাবে নদীতে । কৃষিকাজ করে সংসার চালানো গ্রামবাসীদের ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করতে হবে । অথচ সব দেখে চুপচাপ পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসন ।এলাকার ভাঙন রোধে কোন কাজই হয়নি এখানে, এমনটাই অভিযোগ তাদের । আরও অভিযোগ ভোট এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভাঙন রোধে কাজ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায় । কিন্তু ভোট মিটতেই দেখা মেলেনা তাদের।

এই বিষয়ে এলাকার তৃনমূল বুথ সভাপতি ভাঙ্গন রোধে কোন কাজই হয়না বলে তিনি স্বীকার করে নেন ।তৃনমূল পঞ্চায়েত প্রধান অবশ্য জানান,বিভিন্ন মহলে এলাকার ভাঙন রোধ মোকাবিলার জন্য আলোচনা চলছে । আর ভাঙনের কবলে থাকা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করার চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube