সমকামী বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। বিবাহের অধিকার মৌলিক অধিকার নয়, আইন পরিবর্তন করতে গেলে সংসদকেই তা করতে হবে; সোমবার এমনই সিদ্ধান্ত নিল শীর্ষ আদালত ।
তবে সমকামী ও উভলিঙ্গের মানুষরা যাতে বৈষম্যের স্বীকার না হন ও তাঁদের অধিকার থেকে তাঁরা যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষ বিবাহ আইনেও এই সংক্রান্ত সংশোধন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে । ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে সমাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গড়তে হবে যাঁরা আইনি বৈধতা ও সামাজিক স্বীকৃতির বিভিন্ন দিকগুলি খতিয়ে দেখবেন ।
সমকামিতা প্রাকৃতিক ভাবে স্বাভাবিক । বিবাহের সঙ্গে লিঙ্গভিত্তিক পরিচয়ের কোন সম্পর্ক নেই । বিবাহ সংক্রান্ত আইন কোন স্থবির আইন নয় । সতীদাহ রদ, বাল্যবিবাহ রদ, বিধবা বিবাহে অনুমতি সহ সময়ের প্রয়োজনে যুগে যুগে এর সংষ্কার হয়েছে । সমকামী ও উভলিঙ্গের মানুষরা যাতে বৈষম্য ও হেনস্থার স্বীকার না হন, আইন সভার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত । প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সমকামীদের বিবাহ, তাঁদের সন্তান দত্তক নেওয়া সহ অন্যান্য যাবতীয় অধিকার থেকে রাষ্ট্র তাঁদের বঞ্চিত করতে পারে না, ।
টানা ১০ দিনের শুনানি পর্বের শেষে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গত ১১ মে রায় সংরক্ষিত রেখেছিল । সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্য সদস্যেরা হলেন, বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কউল, বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভট্ট, বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি এস নরসিংহ।
নরেন্দ্র মোদী সরকারের পাশাপাশি, এ বিষয়ে সাতটি রাজ্যের সরকার তাদের মতামত জানিয়েছে । কেন্দ্রের পাশাপাশি, অসম, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং রাজস্থান সরকার সমলিঙ্গে বিয়ের আইনি বৈধতার দাবির বিরোধিতা করেছে। কেন্দ্রের তরফে সমলিঙ্গে বিয়ের আইনি স্বীকৃতির বিরোধিতা করে জানানো হয়, এটা নেহাতই ‘শহুরে অভিজাত সমাজের ভাবনা’। পাশাপাশি, এমন ‘স্পর্শকাতর বিষয়ে’ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার সংসদের হাতে তুলে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মোদী সরকারের বক্তব্য— ‘সমলিঙ্গে বিয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের কোনও রায় সঠিক পদক্ষেপ হবে না।
প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় গোড়া থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন । কখনও বলেছেন, ‘‘সমকামিতা যে কেবল শহুরে বিষয়, এমন কোনও পরিসংখ্যান নেই সরকারের কাছে।’’ কখনও বলেছেন, ‘‘সমকামী সম্পর্কগুলি কেবল শারীরিক নয়, মানসিক, স্থিতিশীল সম্পর্কও।’’ আবার কখনও তাঁর মন্তব্য, ‘‘নারী-পুরুষের সংজ্ঞা শুধু মাত্র জননাঙ্গের উপর নির্ভর করে না।’’ এমনকি, সমলিঙ্গে বিয়ে আইনি স্বীকৃতি না পেলে সমকামী দম্পতির সামাজিক পরিচয় কী হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি ।
২০১৮-র ৬ সেপ্টেম্বর, ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭৭ ধারাকে সংশোধন করে সমকামিতাকে যে ‘অপরাধ’-এর তকমা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সে কথাও কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় । সেই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘যদি সমকামিতা অপরাধ না হয়, তা হলে দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক সমলিঙ্গের মানুষের বিয়ের মতো স্থিতিশীল বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা কোথায়?’’ প্রসঙ্গত, সমলিঙ্গে বিয়ের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাই কোর্টে জমে থাকা মামলাগুলিকে একত্র করে গত জানুয়ারিতে একসঙ্গে শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

