শিক্ষার নামে নৃশংসতা!

একদিকে শিক্ষার নামে চলল নৃশংসতা । অপরদিকে অভিযোগ উঠল ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়ারও । কীর্তিমান ভুয়ো শিক্ষক শান্তনু শর্মার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনে জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দারস্থ হলেন প্রতারিত ছাত্রীরা । সম্প্রতি জলপাইগুড়ির এই ভুয়ো প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর ।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষন নিয়ে চাকরি না পাওয়া ।একই সঙ্গে নার্সিং শেখানোর নামে নৃশংসতারও অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রীরা । তাঁদের অভিযোগ, শরীরে সেলাই করা শেখানোর জন্য একজন ছাত্রীকে দিয়ে আরেকজন ছাত্রীর হাত কাটতে বাধ্য করতেন শান্তনু । এমনকি জলভরা সিরিঞ্জ দিয়ে ইঞ্জেকশন দেওয়া শেখানো হত বলেও অভিযোগ তাঁদের ।

এই সকল অভিযোগ শুনে আৎকে উঠেছেন জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল এবং সুপার কল্যান খাঁ ।তার কথায়, চিকিৎসা শিক্ষায় এই ধরণের প্রশিক্ষনের কথা কোথাও উল্লেখ নেই।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর শান্তনুর ভুয়ো প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর । তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতর এবং থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন পদ্মশ্রী করিমুল হক । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এবার ত্রিশজন ছাত্রী একসঙ্গে অভিযোগ দায়ের করলেন জেলা শাসকের দফতরে । তাদের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।যা এই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করা হচ্ছে।

পিঙ্কি রায় নামে এক ছাত্রী বলেন, তাদের একে অপরের শরীরে ফাঁকা ইঞ্জেকশন পুশ করিয়ে ইঞ্জেকশনের তালিম দেওয়া হত তাঁদের । ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি দিশারি নার্সিং ট্রেনিং স্কুলে তিন মাস ট্রেনিং নেন । প্রতি ব্যাচে এইরকম ৩০ জন করে ছাত্র ছাত্রী প্রশিক্ষণ নিতেন বলে তাঁর দাবি ।তিনি আরও জানান, তিনমাস পর তাকে বলা হয় তিনি চাইলে এএনএম সার্টিফিকেট নিতে পারেন । কিন্তু তার জন্য আরও টাকা চাওয়া হয় তাঁর কাছে ।

টাকা দেওয়ার পর যখন সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের জন্য নার্সিং হোমে তিনি যান তাকে বলা হয় সেটা ভূয়ো সার্টিফিকেট । তারপর খবরে দেখে জানতে পারেন ওই নার্সিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই এখন জেলাশাকের দারস্থ হয়েছেন তাঁরা । লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ।

আরও এক ছাত্রী সুষ্মিতা দাস বলেন, তাঁরা একে অপরের হাত কাটতেন ও সেলাই করতেন । রাতে ব্যাথায় কাতরাতেন । একে অপরের শরীর থেকে রক্ত নিতেন । এইভাবে চলত তাঁদের ট্রেনিং । ট্রেনিং দিতেন শান্তনু শর্মা । তিন বছর আগে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন মাস নাসিং ট্রেনিং নিয়েছিলেন সুষ্মিতা । এর পরে সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য আরও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি । এখানে টাকা দিয়ে তাঁর প্রতারিত হওয়ার দাবি করেছেন । টাকা ফেরত না পেলে আইনের দারস্থ হওয়ার কোথাও বলেন তিনি ।

এই অভিযোগ প্রসঙ্গে শান্তনু শর্মার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন । অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা শাসক শামা পারভীন ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube