ধুঁকছে হাওড়ার শিল্পাঞ্চল

বিশ্বকর্মা আছে বিশ্বকর্মাতে, কারখানায় কারখানায় তার পুজোও হচ্ছে । কিন্তু নেই কোন উচ্ছাস, নেই আড়ম্বর । একদা হাওড়ার শিল্পাঞ্চলকে ইংল্যান্ডের শেফিল্ডের সঙ্গে তুলনা করা হত । আজ হাওড়ার সেই শিল্পাঞ্চল ধুঁকছে । মধ্য হাওড়া, উত্তর হাওড়া, উত্তর পশ্চিম হাওড়া, পশ্চিম হাওড়া সহ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে আয়রন ইন্ডাস্ট্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, ফাউন্ড্রি শিল্পের রমরমা ছিল । লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হত সেখানে । হাওড়ার এইসব ইন্ডাস্ট্রিকে কেন্দ্র করে জেলার বাজার অর্থনীতি চাঙ্গা ছিল একসময় । বর্তমানে সেসব এখন অতীত । সবকিছুই চলছে, তবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ।  মাঝারি শিল্প কিছু টিকে থাকলেও অসংখ্য ছোট কারখানা আজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যেগুলি আছে সেগুলিও প্রায় বন্ধের মুখে ।

উল্লেখ্য, সূত্রের মারফত জানা যায়, ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রায় ১৪২ টি কটন মিল (সুতা কল) অধিগ্রহণ করে । যার মধ্যে এই রাজ্যের প্রায় ২২ টি কারখানা ছিল । সেগুলির মধ্যে দাশনগরের আরতি কটন মিল, ইন্ডিয়া মেশিনারি, ভারত জুট ইত্যাদি ছিল । ইন্ডিয়া মেশিনারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নানান কারণে মামলা হয় । মামলায় হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সেখানে কারখানা করার কথা ছিল । কিন্তু বর্তমান মালিক সেখানে প্রমোটিংয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে চলছে । প্রায় ২৫ বিঘার বেশি জায়গা নিয়ে এই কারখানা এখন জঙ্গলে ভরে গেছে ।

শ্রমিক নেতা সমর পাত্র এক সময় আরতি কটন মিলের কর্মী ছিলেন । দাশনগর অঞ্চল সহ হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পের দুর্দশা নিয়ে তাঁর উপলব্ধি, ‘আগামী দিনে হাওড়ায় শিল্পের ভবিষ্যত অন্ধকার’ । যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করতেন, সেই ইন্ডিয়া মেশিনারি কারখানা বিক্রি হয়ে গেল । আরতি কটন, ভারত জুট আজ ধুঁকছে । ইন্ডিয়া মেশিনারির দুর্দশার কারণ হিসেবে বর্তমান রাজ্য সরকার, বাম আমলের কিছু নেতাকে দায়ী করলেন তিনি ।

কোনা বাগপাড়ায় এক ব্যবসায়ী শৈবাল ঘোষ বলেন, ‘এখন ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্য এগিয়ে গেলেও পরিকাঠামোগত কারণে মার খাচ্ছে হাওড়ার এই ইন্ডাস্ট্রি । অন্যান্য রাজ্যে সেখানকার  সরকার শিল্পের উন্নতির জন্য সেখানকার শিল্পে সহায়তা করেন; আমাদের রাজ্যে যেটার অভাব রয়েছে । নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার না করতে পারায় উৎপাদন কম হচ্ছে । নতুন প্রুযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির সাথেসাথে পণ্যের গুনমানেরও উন্নতি হয় । উৎপাদন বেশিমাত্রায় হলে শ্রমিকদের মজুরিও বাড়ানো সম্ভব হয় । তা না হওয়ায় শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে অধিক মজুরির কাজ পেয়ে এখান থেকে চলে যাচ্ছেন । সেক্ষেত্রে সরকারের সহায়তা পাওয়ার দরকার । কিন্তু তা পাওয়া যায়না । তাই আয়রন ইন্ডাস্ট্রির তথৈবচ অবস্থা এখানে’ ।

সোমবার হাওড়ার বিভিন্ন কারখানায় ঘুরে দেখা গেল বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হলেও সেখানে শ্রমিকদের মধ্যে নেই উচ্ছাস, আনন্দ । কারণ – তারাই বলছেন, অতীতে যে হারে কাজ হতো কারখানায় সেই কাজ এখন কমে গিয়েছে । আগে এই পুজোর দিনে প্রচুর মানুষ আমন্ত্রিত হয়ে একত্রে খাওয়াদাওয়া আনন্দ হত । এখন আর সেই সব নেই । স্থানীয়রা কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও দুর দূরান্ত থেকে কাজে আসা শ্রমিকদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে । তারা ভিন রাজ্যে কাজে চলে যাচ্ছেন ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube