বহরমপুরে কলেজ ছাত্রীকে নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগে এবার দোষী সাব্যস্ত হল অভিযুক্ত । অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দিল বহরমপুর আদালত । খুনের ১৫ মাসের মাথায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনানি হল সুতপা চৌধুরী হত্যাকান্ডের।
বৃহস্পতিবার বহরমপুরের তৃতীয় দ্রুত নিষ্পত্তি (ফাস্ট ট্র্যাক) আদালতের অতিরিক্ত ও জেলা দায়রা বিচারক সন্তোষ কুমার পাঠকের এজলাসে সুতপা চৌধুরী খুনের মামলার শুনানি হয়। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এবং বৃহস্পতিবার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত করা হয়, বুধবার শোনা হয় হেয়ারিং, অবশেষে বৃহস্পতিবার বিচারক সমস্ত দিক বিবেচনা করে এই ফাঁসি অর্থাৎ মৃত্যুদন্ডের নির্দেশ দিল আদালত।
সরকারী আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, সুশান্ত চৌধুরীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (খুন) এবং ২৮ ধারায় (অবৈধ অস্ত্র) আইনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এবং গোটা ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনেকখানি রয়েছে বলেও জানান তিনি । সুত্রের খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এই মামলায় ৩৪ জনের সাক্ষী গ্রহণ করেছে আদালত। তদন্তে রয়েছে একাধিক ‘ইলেকট্রনিক এভিডেন্স’ ও; রয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, এক সাক্ষীর নেওয়া ভিডিও ফুটেজ, অভিযুক্তের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন, কল রেকর্ড। তবে সুশান্তের মৃত্যুদন্ডের নির্দেশ দিতেই খুশি সুতপার পরিবারের সদস্যরা। ন্যায় বিচার দিল আদালত বলেই জানান তারা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২ মে, সোমবার সন্ধ্যায় ৬ টা ৩৫ মিনিটে বহরমপুরের গোরাবাজারে অভিজাত পাড়ায় ঘটেছিল সেই হাড় হিম করা ঘটনা। ভরসন্ধ্যায় নিজের মেসের বাইরে খুন হন বহরমপুর গার্লস কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুতপা চৌধুরী। মালদহর বাড়ি থেকে বহরমপুরে পড়তে এসেছিলেন তিনি। জানা যায়, সেদিন এক বন্ধুর সাথে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন সুতপা। সিনেমা দেখে ফেরার সময় সুতপার পিছু নেয় সুতপারই প্রাক্তন প্রেমিক সুশান্ত। মেসের সামনে আসতেই হামলা করে সে।খুনের ছবি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামশেরগঞ্জের কাছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে সুশান্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনার ৭৫ দিনের মাথায় বহরমপুর আদালতে সুতপা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। অভিযুক্ত সুশান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (খুন) ও ২০১ ধারায় ( প্রমাণ লোপাট) চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালতে জমা পড়ে ৩৮৩ পাতার চার্জশিট। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, পুর্বপরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয় কলেজ ছাত্রীকে। খুনের আগে অনলাইনে একটি খেলনা বন্দুকও কিনেছিল অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরী। হত্যার সুযোগ খুঁজতে বহরমপুরে একটি মেসে থাকতেও শুরু করেছিলেন সুশান্ত।আইনজীবিদের দাবি, খুনের উদ্দেশ্যেই বহরমপুরে এসেছিলেন সুশান্ত।
জানা যায়, কলেজ পড়ুয়া সুতপার দেহে ছিল ৪২ টি আঘাত। আঘাত গুরুতর হওয়াতে ঘটনাস্থলেই হয় মৃত্যু। প্রত্যক্ষদর্শীরা সুতপাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখায় সুশান্ত। দেওয়া হয় খুনের হুমকিও। পরে যদিও পুলিশ জানায়, ওই বন্দুক আসলে খেলনা বন্দুক।
সুতপা চৌধুরীর পরিবারের অভিযোগ ছিল, ২০১৭ সাল থেকেই একাধিকবার অশান্তি সৃষ্টি করেছিল সুশান্ত । তদন্তে উঠে এসেছে, সুতপা চৌধুরীর উপর রাগ ও হতাশা থেকেই এই খুন করে অভিযুক্ত । পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা বয়ান দেওয়ারও চেষ্টা করে সুশান্ত। তবে লাভ হয় নি তাতে । জানা গিয়েছে আগে সুশান্তর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুতপা চৌধুরীর। সুতপা সেই সম্পর্ক ভেঙে বেড়িয়ে আসতেই এই কান্ড ঘটায় অভিযুক্ত। মঙ্গলবার সুশান্ত কে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত । অবশেষে বুধবার সুশান্ত কে আদালতে পেশ করে তার কথা শোনা হয়। যদিও বৃহস্পতিবার মৃত্যুদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। নৃশংস খুনের আত্মার শান্তি পাবেই বলেই দাবি শহরবাসীর। তবে নিজেকে নির্দোষ বলেই দাবি করেন সুশান্ত। যদিও সুতপার বাবা জানান, তিনি খুব খুশি। এই ধরনের নৃশংসতা ঘটনায় ফাঁসি হওয়া উচিৎ। যদিও অভিযুক্তের আইনজীবী পিযুষ ঘোষ জানান, আমরা এই রায়ে খুশি নই । আমরা উচ্চ আদালতে যাব এই রায়ের বিরুদ্ধে ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

