দত্তপুকুর বেআইনি বাজি কারখানার বিস্ফোরণে মৃত মুর্শিদাবাদের শ্রমিক

রবিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জ এলাকার একটি বেআইনি বাজি কারখানাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত আটজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে । আহত হয়েছেন প্রায় আরও আটজন । সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই আরও বেশ কিছু ব্যক্তির খোঁজ মিলছিল । যদিও মৃতের মধ্যে অনেকেই মুর্শিদাবাদের সুতির বাসিন্দা ।

মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অন্তর্গত জগতাই ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন চাঁদরা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে । মৃতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী তরিকুল সেখ, ৪০ বছর বয়সী হাবিব সেখ, ১৫ বছর বয়সী ছোটন সেখ, ২০ বছর বয়সী রনী সেখ, ২২ বছর বয়সী সুজন সেখ, ২০ বছর বয়সী আন্দাজ সেখ ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সুতি থানার নতুন চাঁদরা গ্রামের বেশ কিছু বাসিন্দা বাজি তৈরিতে বিশেষজ্ঞ বলে রাজ্যে পরিচিত । তাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাজি  তৈরির কারখানাতে তাদের বিপুল কদর রয়েছে । ২০১৬ সালে পিংলাতে একটি বাজি তৈরির কারখানাতে বিস্ফোরণে নতুন চাঁদড়া গ্রামের ৯ জন নাবালক মারা গিয়েছিল ।

দত্তপুকুর থানা এলাকাতে বেআইনি বাজি কারখানাতে বিস্ফোরণের পর ওই গ্রামের বেশ কিছু ব্যক্তির খোঁজ না মেলাতে গ্রামে ফের আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে । তবে গ্রামের কোন বাসিন্দা নিখোঁজ তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন গ্রামবাসীরা । একাধিক গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে তাদের মুখ খোলা বারণ রয়েছে ।

গ্রামের এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, জেরাত আলি নামে তাঁদের গ্রামের এক বাসিন্দা প্রায় ১০ জনকে ওই বাজি কারখানাতে কাজের জন্য নিয়ে গিয়েছিল বলে তাঁরা জানেন । ওই শ্রমিকদের মধ্যে জেরাতের নিজের ছেলে এবং তার দাদা ঈশা শেখের ছেলেরাও রয়েছে ।

অন্যদিকে, নিমতিতা বিস্ফোরণের ঘটনাতে জড়িত থাকা এবং বোমার মশলা সরবরাহ করার অভিযোগে ঈশা বর্তমানে এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছে । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরাতেরও পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে । পাঁচ বছর জেল খাটার পর বছর তিনেক আগে সে ছাড়া পায় ।  কিন্তু তারপরও অপরাধ জগতের সাথে তার যোগাযোগ ছিল । বারবার তার বাড়িতে পুলিশ হানা দিতে শুরু করাতে বছর তিনেক আগে সে নিজের স্ত্রী আসমা বিবিকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যায় । স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঈশা এবং জেরাত দু’জনেই সম্পর্কে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা শরিফা বিবির দেওর হন ।

শরিফার ছেলে মিরাজ শেখ বলেন,”আমার কাকা জেরাত কী করেন, কোথায় থাকেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও খবর নেই” । সোমবার সকালে এই ঘটনা পরিবারে জানা জানি হতেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । এক সঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube