ডেঙ্গুতে মৃত্যু বালিকার

হাবড়ায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর ।  সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি এলাকার সাফাই ও ডেঙ্গু অভিযান নিয়ে পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন মৃতের পরিবার ও এলাকাবাসীরা ।

চলতি বছরে এই প্রথম হাবড়ার বাসিন্দার মৃত্যু হল ডেঙ্গুতে । মৃতার নাম দেবযানী দাস, বয়স মাত্র ১১ বছর ৮ মাস । জানা যাচ্ছে  হাবড়া গার্লস হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া এই ছাত্রী চলতি মাসের ১১ তারিখ রাতে জ্বরে আক্রান্ত হয় ।  পরের দিন পরিবারের তরফে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্ট দেখে জানতে পারা যায় সে  ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে  । চলতি মাসের ১৩ তারিখ ভর্তি করা হয় হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ।চার দিনের মাথায় কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতালে বসেই ছোট্ট দেবযানি রিলস ও ইনস্টাগ্রাম ভিডিও আপলোড করে। তবে পরদিন হঠাৎ তার পুনরায় জ্বর ওঠে ,একবার বমিও করে সে ।

পরিবারের তরফে চিকিৎসককে জানালে হাবড়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’টি ইঞ্জেকশন দেন দেবজানিকে ।পরিবারের অভিযোগ এর পরেই কিশোরীর অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে রোগীর পরিবারকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় । সেই মতোই চলতি মাসের ১৮ তারিখ কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর অবস্থা খারাপ হওয়ায় বারাসত হাসপাতালে ঘন্টা দুয়েকের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পর্যাপ্ত বেড না থাকায়  পুনরায় তাদের রেফার করে  দেওয়া হয়।

এরপর ১৮ তারিখ রাতেই আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর জানান আগে ঠিকঠাক চিকিৎসা হয়নি। দু’দিন বাদে গত রবিবার রাতে মৃত্যু হয় দেবযানীর। পরিবারের তরফে হাবরা হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তয়াল হয় ।  পাশাপাশি পুরসভার তরফে এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ে সাফাই অভিযান, ব্লিচিং ছেটানো বা মশা মারা তেল স্প্রে করার মত কিছুই করেনি বলে অভিযোগ আনা হয় ।  বাড়ি বাড়ি থেকে যে স্বাস্থ্য কর্মীরা রিপোর্ট সংগ্রহ করে তারাও কিশোরীর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করতে আসেনি এলাকায় , এমনটাই অভিযোগ আনহা হচ্ছে ।

হাবড়ার জয়গাছি পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত কিশোরীর বাবা বিশ্বজিৎ দাস জানায় এলাকায় অনেক পরিবারই জ্বরে আক্রান্ত রয়েছে। তার মেয়ের মৃত্যুর পর যে পরিষেবা পৌরসভা থেকে দেওয়া হচ্ছে তা যদি আগে দেওয়া হত তাহলে মেয়েকে প্রাণ হারাতে হত না ।  অন্যদিকে হাবড়ায় পুরপ্রধান জানান,  ডেঙ্গু সাফাই অভিযান ঠিকঠাক চলছে। তবে বাড়ি বাড়ি জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়নি , অনেক ক্ষেত্রে বাধাও পেয়েছেন তারা। হাবড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন দেবযানীর পরিবার তা নিয়ে হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ক্যামেরার সামনে কোন প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube