।। স্বর্ণালী মান্না ।।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার । বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় সৌরভ চৌধুরী নামের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তনীকে । তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার চন্দ্রকোনা থানার খারুসা এলাকায় । তাঁর বাড়িতে থাকেন বাবা নিরুপ চৌধুরী ও মা প্রণতি চৌধুরী । সৌরভ চৌধুরীর বাবা মায়ের অবশ্য দাবি তাঁদের ছেলে কোনওভাবেই এই ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারেন না ।
মৃত স্বপ্নদীপের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রথমে সৌরভ চৌধুরীকে আটক করা হয় । পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি মেলায় গ্রেফতার করা হয় ওই প্রাক্তন ছাত্রকে । তবে কে এই সৌরভ চৌধুরী? সুত্রের থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন চন্দ্রকোনার বাসিন্দা সৌরভ চৌধুরী । এরপর ২০২২ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘পাস আউট’ হন তিনি । এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন ছাত্রসংগঠন ডব্লিউটিআই-এর সক্রিয় নেতা ।
এই পড়ুয়ার বিরুদ্ধেই উঠছে একাধিক অভিযোগ । হোস্টেলে অসামাজিক কাজকর্ম র্যাগিংয়ের মূল মাথা হিসেবে পরিচিত সৌরভ চৌধুরী । একই সঙ্গে সামনে আসছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য; যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে সৌরভের মতো একাধিক ছাত্র সংগঠনের প্রায় ৩০ জন মতন রয়েছেন, যারা শুধুমাত্র র্যাগিং নয়, যুক্ত রয়েছেন আরও বেশ কিছু অসামাজিক কাজে । সুত্রের খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ১২ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে যারা অনেক আগেই পাস আউট হয়েছে ।
অন্যদিকে সুত্রের খবরে উঠে আসছে, মূলত সৌরভ চৌধুরী ও তার দলের কাজ ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পঠনরত ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেলের কী কী সুবিধা আছে তা জানিয়ে তাদেরকে হোস্টেলমুখী করা । তার পরই প্রথম বর্ষের ছাত্রদের ‘ইন্ট্রো’-র নামে হোস্টেলে থাকা ছাত্রদের ‘মিলিটারি ছাট’-এর চুল কাটা সহ হোস্টেলে প্রবেশ করার নানান বিধান ঠিক করে দিত সৌরভ ও তার দলের বাকি সদস্যরা । জানা গিয়েছে এরা পড়ুয়াদের পরিবারকেও বিভিন্ন সময় ফোন করে জানাতেন যে তাদের ছেলে হোস্টেলে খুব ভালো রয়েছে ।
জানা যাচ্ছে, শুধু সৌরভ চৌধুরী নয় আরও চারজন রয়েছেন যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত । তার মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রাক্তনীও রয়েছেন যারা এই র্যাগিং কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন । পুলিশের ফুটেজে ধরা পড়েছে ঘটনা যেদিন ঘটেছে অর্থাৎ বুধবার সৌরভ চৌধুরী সঙ্গে চা খেতে বের হয় স্বপ্নদীপ । সেই সময় তার মাকে ফোন করেন স্বপ্নদীপ । মায়ের সঙ্গে কথা হবার পর এই সৌরভ স্বপ্নদীপকে ডেকে নিয়ে চলে যায় মেন হোস্টেলের একটি রুমে । সেখানে স্বপ্নদীপ সহ মোট চারজন উপস্থিত ছিল, যারা তাঁর থেকে সিনিয়র । প্রায় ঘন্টা তিনেক তারা একসঙ্গে ছিলেন । সেখানে কী ঘটেছিল তা জানতে চেয়ে কলকাতা পুলিশের নজরে এবার আরও চার পড়ুয়া ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

