পদ হারালেন দিলিপ ঘোষ, তুঙ্গে জল্পনা!

।। স্বর্ণালী মান্না ।।

বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন । আর সেই নির্বাচনের আগেই বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে বড়সড় রদবদল দেখা গেল শনিবার । বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হল কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের নতুন তালিকা । সেই তালিকায় জায়গা হল না দিলীপ ঘোষের । দিলীপ ঘোষকে সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিল গেরুয়া শিবির ।

দিলীপ ঘোষ এখন শুধুই মেদিনীপুরের সাংসদ । বিজেপির তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে সম্পাদক হিসেবে নাম রয়েছে শুধু অনুপম হাজরার । কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় স্তরের দু’টি বৈঠক আয়োজিত হয় । সেই বৈঠকে অমিত শাহ ও জে পি নাড্ডার সঙ্গে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় ছিলেন সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারী । উল্লেখযোগ্যভাবে মনে করা হচ্ছে সেই বৈঠকে জাতীয় কর্ম সমিতির তালিকা এনে অব্যাহতি দেওয়া হয় দিলীপ ঘোষকে ।

এই রদবদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে । সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর দিলীপ ঘোষের পরবর্তী পদ কী হতে পারে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা । সুত্রের খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, দল ও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে সকল দলীয় সমর্থকরা ২০২৪ সালের লোকসভার প্রার্থী হতে চলেছেন তাদেরকে জাতীয় সাংগঠনিক পদ দেওয়া হচ্ছে না ।

এর পরেই উঠে আসছে একাধিক সম্ভাবনা । কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় পদ পেতে চলেছেন এই দাপুটে নেতা ? সাংসদ নিজেও জানিয়েছেন, যে সকল প্রার্থীরা আগামী লোকসভা নির্বাচনে লড়বেন তাদেরকে নিজেদের এলাকায় কাজ করবার জন্য কেন্দ্রীয় স্তরে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে ।

এই প্রসঙ্গে একটি ব্যাপার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । রাজ্য স্তরে দিলীপ ঘোষের সাংগঠনিক ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই । এই ক্ষেত্রে বলা যায়, দিলীপ ঘোষের হাত ধরেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থান শুরু হয় বঙ্গে । তাঁর রাজ্য সভাপতি থাকার সময় দু’টি আসন থেকে বিজেপি পায় ১৮টি আসন । তবে ২০২১ সালে মেদিনীপুরের এই সাংসদকে সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হলেও, “অব কি বার, ২০০ পার”-এর স্লোগান দেওয়ার পরও বিজেপি ১০০-র গণ্ডিও পেরোতে পারেনি । সেই সময় একাধিক রাজ্যের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে; তেলেঙ্গানা, অসম ও উড়িষ্যার দায়িত্ব সামলেছেন তিনি ।

যথারীতি এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে পদ্ম শিবিরের আগামী পদক্ষেপ ঠিক কী হতে চলেছে? সেই ক্ষেত্রে উঠে আসছে দু’টি সম্ভাবনা । এক, তাঁকে কি তাহলে মন্ত্রিসভায় রাখা হবে? আগামী দিনে মন্ত্রী হয়েই কি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি? দুই, তিনি কি ফিরে যাবেন রাজ্য সংগঠনের দায়িত্বে? সে ক্ষেত্রে খড়গপুর থেকে তিনি লোকসভা নির্বাচন লড়বেন বলেই মনে করা যাচ্ছে ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube