রাজনৈতিক জীবনে ‘হার’ শব্দটা তাঁর ডিকশনারিতে নেই । তাই ৭২ বছর বয়সেও অক্লান্ত বাঁকুড়া-১ নম্বর ব্লকের আঁচুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাদুলাড়া গ্রামের আব্দুল মোতালেব মোল্লা । কংগ্রেস সমর্থক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই ওই দলের একান্ত সৈনিক ।
এর পাশাপাশি মোল্লা সাহেবের আর একটি পরিচয় রয়েছে । ১৯৯৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে বিগত ২০১৮ পর্যন্ত তিনিই তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যও । আর এবারও তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছে শাসক দল । বয়স ৭২ হলেও এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও আঁচুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১০ নম্বর বুথ থেকে সপ্তম বারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসরে তিনিই ।
পেশায় ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব মোল্লার সমর্থনে জোরদার প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূল কর্মীরা । এর পাশাপাশি সাইকেলে দলীয় পতাকা বেঁধে নিজেই বাড়ি বাড়ি প্রচার সারছেন বছর বাহাত্তরের এই ‘যুবক’ । সূত্রের খবর, ১৯৯৮ সালে প্রথম ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হন তিনি । পরে ২০০৩, ২০০৮, ২০১৩ ও ২০১৮তেও তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন ও জয়লাভ করেছেন ।
যদিও সংরক্ষণের গেরোয় পড়ে একাধিকবার আসন বদল করতে হয়েছে তাঁকে । তবে এবারের লড়াইটা বেশ কঠিনই মনে করছেন অনেকে । কারণ আঁচুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে লড়াই এবার দ্বিমুখী । এখানে তৃণমূলকে সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছে সিপিআইএমও । লড়াই যে এবার দ্বিমুখী, মানছেন তৃণমূল প্রার্থী মোল্লা সাহেবও । তবে প্রতিদ্বন্দ্বী যেই হোক মানুষের ভালোবাসায় ফের তিনি জয়ী হবেন বলেই আত্মবিশ্বাস তাঁর ।
গ্রামবাসীদের একাংশও চাইছেন তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল মোতালেব মোল্লাই জিতুন । গ্রামবাসী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কাজের মানুষ, কাছের মানুষ’ হিসেবেই পরিচিতি রয়েছে তাঁর । মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় তাঁকে পাওয়া যায় বলেই তিনি জানান ।
তবে ওই বুথের সিপিআইএম প্রার্থী মহম্মদ মোহিত ইসলামের দাবি, এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হবে ওই বুথ । আব্দুল মোতালেব মোল্লার বিরুদ্ধে আবাস যোজনায় কাটমানি তত্ত্ব হাজির করে তিনি বলেন, ‘এবার সুযোগ এসেছে; মানুষ পরিবর্তন চাইছেন’ । মোল্লা সাহেবকে হারিয়ে তিনিই শেষ হাসি হাসবেন বলে দাবি করেছেন বাম প্রার্থী ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

