কাকদ্বীপ, দক্ষিন ২৪ পরগনাঃ কিছু মৎস্যজীবীর উদাসীনতায় ইলিশের বংশ ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে । নির্বিচারে ধরা হচ্ছে শিশু ইলিশ । এর ফলে আগামী দিনে বড় ইলিশ মিলবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে । খোকা ইলিশ ধরার উপরও যখন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাহলে কী ভাবে এই শিশু ইলিশ ধরা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মাইকিং করে মৎস্যজীবীদের সচেতন করার কাজ চলছে মৎস্য দফতরের তরফে ।
এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার মরসুম । কিন্তু মরসুমের শুরুতেই বেআইনী ভাবে ছোট ছোট ইলিশের বাচ্চায় ছেয়ে গেছে গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা । ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জের বাজার ও মাছের আড়তে দেদার বিকোচ্ছে এই শিশু ইলিশ । এক একটি ইলিশের ওজন পঞ্চাশ গ্রামেরও কম । এই ছবি ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্রবাজারে মাছের আড়ত থেকে কাকদ্বীপের বাজারেও । বাজারে এই মাছের চাহিদা কম থাকায় আবার অনেকেই নদীর চরে ফেলে দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করছে এই শিশু ইলিশকে । এরকম চলতে থাকলে আগামীদিনে ইলিশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ।
সরকারি নিয়ম মতে পাঁচশো গ্রামের কম ওজনের ইলিশ ধরা ও বিক্রি করা আইনত অপরাধ । মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বছরভর প্রচারও করা হয় । কিন্তু বছরের পর বছর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে চলছে ছোট ইলিশ ধরা । এক শ্রেণির ট্রলার মালিক প্রকাশ্যে এই বেআইনী কাজ করে চলেছে বলেও অভিযোগ । ইতিমধ্যে এবারের ছোট ইলিশ বাজার ছেয়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে মৎস্য দপ্তর । কাকদ্বীপ, নামখানা মৎস্য বন্দরে চলছে মাইক প্রচার ।
মৎস্যজীবী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে এই প্রচার । সামুদ্রিক মৎস্যজীবী ইউনিয়নের নেতৃত্ব বিজন মাইতি, সতীনাথ পাত্র মৎস্যজীবীদের ছোট ইলিশ না ধরার আবেদন করেছেন । জেলার সহ মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) পিয়াল সর্দারও ছোট ইলিশ ধরার কথাটা স্বীকার করে নিয়েছেন । তিনি জানিয়েছেন, আমরা প্রচার করছি; পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তল্লাশি চালাব, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

