পুরুলিয়াঃ- চলতি বছরে দীর্ঘ সময় ধরে অনাবৃষ্টি এবং ভয়ংকর তাপপ্রবাহের ফলে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পুরুলিয়া জেলার আম চাষীরা । এমনই ঘটনা ঘটল পুরুলিয়া-১ ব্লকের ভান্ডারপুয়াড়া এলাকার আমচাষে । চাষীদের অভিযোগ সেচ ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও ফল হয়নি । উঠছে প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগও । যদিও পঞ্চায়েত দপ্তরের দাবি, খনন করে জলের ব্যবস্থা করার বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল । তবে দীর্ঘদিন ধরে মহাত্মা গান্ধী কর্ম সুনিশ্চয়তা প্রকল্পে ফান্ডের টাকা বন্ধ রয়েছে । ফলে সমস্যার সমাধান করা যায়নি ।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বাম আমলে, ৯০-এর দশকে পুরুলিয়া-১ ব্লকের ভান্ডারপুয়াড়ায় সরকারের ওয়াটার শেড প্রকল্পের অধীন রায়তী জমি ছাড়াও সরকারি জমিতেও করা হয় ওই বাগানগুলি । চাষবাস সহ পরিচালনার ভার দেওয়া হয় স্থানীয়দের নিয়ে গঠিত সমবায় বা কমিটিকে । পদ্ধতিগতভাবে বিক্রিত ফলন (আম) থেকে উপার্জনের টাকাতেই আমের চাষ ও বাগান পরিচর্যার কাজ করা হবে ও একইসঙ্গে জুটবে কর্মসংস্থান । সেইমত ভান্ডারপুয়াড়া, ভান্ডারপুয়াড়া বস্তি ও ময়রাডির তিনটি আমবাগানে আমের চাষ শুরু হয় । ২০১০-১১ সাল থেকে মোটামুটি ভাবে বাগানগুলি থেকে বিক্রি করার মত ফলন পাওয়া শুরু হয় ।
জানা গিয়েছে, ভান্ডারপুয়াড়া বস্তির বাগানের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিঘা, যেখানে প্রায় ৩ হাজারের মত আম গাছ রয়েছে । ভান্ডারপুয়াড়ায় প্রায় ৯ বিঘার মত জমিতে ২২০০ থেকে ২৩০০ গাছ রয়েছে এবং ময়রাডির বাগানে প্রায় ৮ বিঘা জমিতে রয়েছে ১৮০০-র মত আম গাছ ।
ভান্ডারপুয়াড়ার বাসিন্দা আম চাষী তথা এলাকার ওয়াটার শেড প্রকল্পের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন আনসারি জানালেন, প্রাথমিকভাবে বাগানগুলিতে এই সংখ্যায় আম গাছ থাকলেও বর্তমানে বেশ কিছু গাছ অবশ্য মরে গিয়েছে । তিনি আরও বলেন, তিনটি বাগানে মূলত এক প্রজাতির আমই চাষ করা হয়, আর তা হল আম্রপালি । তবে স্থানীয় চাষীদের মতে আমের গুণগত মান অসাধারণ । তাঁর কথায়, তিনটি বাগানেরই আম এতটাই সুস্বাদু যে পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে এই আমের ক্রেতা প্রচুর । যাঁরা একবছর এই আম খান, প্রত্যেক বছর তাঁরা আমের জন্য ছুটে আসেন । মোটামুটি ২০১০-১১ থেকে বাগানগুলিতে বিক্রি যোগ্য ফলন পাওয়া যাচ্ছে । প্রতি বছর তিনটি বাগানের আম বিক্রি করে গড়ে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পাওয়া যায় । আম চাষ সহ বাগানের যাবতীয় পরিচালনার ভার রয়েছে সমবায় ভিত্তিতে গড়ে তোলা স্থানীয় ষোলোআনা কমিটির হাতে । বিক্রির টাকাও কমিটির হাতেই তুলে দেওয়া হয় । জালাল উদ্দিন আনসারি জানাচ্ছেন, আম চাষের মরশুমে বছরে চার থেকে সাড়ে চার মাস দৈনিক গড়ে ৩০ জনের কর্মসংস্থান হয় এই বাগানগুলিতে । বিক্রির টাকার বেশ কিছুটা ব্যবহার করা হয় এলাকার উন্নয়নে ।
তবে এবছর বাধ সেধেছে দীর্ঘ দিনের অনাবৃষ্টি এবং প্রচন্ড দাবদাহ । জালাল উদ্দিন আনসারির জানান, “আমি নিজে ভান্ডারপুয়াড়ার বাগানটা দেখাশোনা করি । দূরের একটা পুকুর থেকে জল সেচের ব্যবস্থা করা হয় । তবে এবছর তাও শুকিয়ে গিয়েছে । ফলে জলের অভাবে একদিকে যেমন আম চাষের বেশ ক্ষতি হয়েছে এবছর, অন্যদিকে তেমন বেশ কিছু গাছ মরেও গিয়েছে” ।
তাঁর দাবি, আমের ফলন হয়েছে ঠিকই । তবে জলের অভাবে অন্যান্য বছরের তুলনায় তা কম হয়েছে । স্থানীয় ওয়াটার শেডের চেয়ারম্যানের আরও দাবি, “বহু বছর ধরেই আমরা বাগানগুলির জন্য আরও জল সেচের ব্যবস্থা করার জন্য বলেছি প্রশাসনকে কিন্তু কোনও ফল হয়নি” । তিনি জানান, “বাড়তি সেচের জল পেলে আম গাছের মধ্যবর্তী স্থান গুলিতে হলুদ ইত্যাদির চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে” । এর ফলে সারা বছর ফসল বিক্রি করে উপার্জন করা যাবে এবং একইসঙ্গে বছরের অধিকাংশ সময় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ বাড়বে ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

