অস্তিত্ব বিপন্ন কপিলমুনির মন্দিরের, মন্দির রক্ষা করতে নতুন উদ্যোগ প্রশাসনের

।। প্রসেনজিৎ সাহা ।।

গঙ্গাসাগরঃ সাগরে ভাঙনের জেরে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির মন্দিরের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে । সেই কারণে মন্দির রক্ষার তাগিদে তড়িঘড়ি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন ।

সাগরতটের ভাঙন রুখতে ব‍্যবহার করা হচ্ছে টেট্রাপড । অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্র সৈকতের ঠিক সামনেই তিন মাথাযুক্ত কংক্রিটের টুকরো ফেলার কাজ চলছে জোরকদমে । ফলে উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কা সরাসরি বাঁধে লাগার সম্ভাবনা কমবে বলে অভিমত জেলা প্রশাসনের । ফলে বাঁধ ভাঙার সম্ভবনাও কমবে ।

এর আগে একাধিক কপিলমুনির মন্দির সাগরে তলিয়ে গেছে । বর্তমান মন্দিরটি তৃতীয় সংস্করণ । কিন্তু যেভাবে দিনের পর দিন সাগরে ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে এই মন্দিরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল । আগে যে সাগরতট মন্দির থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে ছিল, বর্তমানে ভাঙনের ফলে তা মাত্র ৪০০ মিটারের মধ্যেই চলে এসেছে ।এর পাশাপাশি, প্রতি বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গঙ্গাসাগরের সমুদ্রতট ।

ভরা কোটাল আসলেই চিন্তায় পড়েন স্থানীয় উপকূলীয় বাসিন্দারা । বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে সর্বদা । অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে দাঁড়ায় যে এই বাঁধ ভাঙার কারণে সমুদ্রে জল চলে আসে কপিলমুনির আশ্রমে । আমপান, ইয়াসের সময় বারে বারে জলমগ্ন হয়েছে কপিলমুনির মন্দির চত্বর । আর সেই কারণে এই মন্দির রক্ষার তাগিদে বিজ্ঞানসম্মত প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেট্রাপড ব্যবহার করা হচ্ছে সাগরের ভাঙন রোধে ।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এসে ধাক্কা খাবে এই টেট্রাপডে । তাতেই শক্তি হারাবে সেই ঢেউ । ঢেউ ভেঙে গেলে আর সাগরের পাড় বাঁ বাঁধ ভাঙবে না । সেই কারণে বিশালাকৃতির এই ট্রেট্রাপড ব্যবহার করা হচ্ছে । এক একটি ট্রেট্রাপডের ওজন প্রায় পৌনে চার টনের মতো । ইতিমধ্যেই সেই কাজ দ্রুত গতিতে চলছে । ফলও মিলতে শুরু করেছে বলে দাবি প্রশাসনের । যেখানে যেখানে এই ট্রেট্রাপড ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে ইতিমধ্যেই পলি জমতে শুরু করেছে । এভাবে পলি জমলে ভাঙন রক্ষা পাবে বলেই দাবি প্রশাসনের । 

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube