নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা

।। স্বর্ণালী মান্না ।।

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে তৎপর সিবিআই তল্লাশি চালাল কলকাতা থেকে উত্তর ২৪ পরগনার ৭টি জায়গায় । একের পর এক সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র বাড়ি – রাধারাণী, তাঁর বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে তাঁর ফ্ল্যাট – ত্রিবেণী অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যারাকপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়দীপ দাস এর বাড়ি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রাক্তন স্পেশাল ওএসডি প্রবীর ব্যানার্জির বাড়ি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুকান্ত আচার্যর বাড়ি, ব্যবসায়ী ও তৃণমূল নেতা সান্টু গাঙ্গুলীর বাড়ি ও কলকাতা পুরসভার ১২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থ সরকারের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই ।

বেহালায় ১২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থ সরকার ওরফে ভজার ফ্ল্যাটে এবার সিবিআই হানা । নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে আগেও বারবার উঠে এসেছে এই পার্থ সরকারের নাম । ইডির তরফ থেকে দায়ের করা কুন্তল ঘোষের চার্জশিটে নাম ছিল ১২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থ সরকার ওরফে ভজার । সেই চার্জশিটে উল্লেখ ছিল  ২০১৭-১৮ সালে নিউটাউনের একটি হোটেলে কুন্তল নিজে পার্থ ঘনিষ্ট প্রবীর ব্যানার্জি এবং গোপাল দলপতি কে ৪৫ লক্ষ টাকা নগদ দিয়েছিলেন । এর পাশাপাশি ইডির দায়ের করা চার্জশিট অনুযায়ী, কুন্তল বয়ান দিয়েছেন, ২০১৮ সালে তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ পার্থ সরকার কে দেখেছেন ।  তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অফিসে বসতেন । সেক্ষেত্রে পার্থ সরকার আর কার কার ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই সমস্ত কিছু জানতে তল্লাশি চালান হয় কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে ।

এছাড়াও সিবিআই সূত্রের দাবি, মন্ত্রী থাকাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা পৌঁছে দিতেন কাউন্সিলর পার্থ সরকার । সূত্রের খবর, জেরায় প্রাক্তন তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে, দুর্নীতির কালো টাকা প্রথমে সংগ্রহ করতেন পার্থ সরকার । পরে তা পৌঁছে দেওয়া হত তৎকালীন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে । এছাড়াও অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন বেহালা এলাকার বিজেপি এবং সিপিএম নেতৃত্ব ।

এর পাশাপাশি পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সান্টু গাঙ্গুলীর সর্সুনা বীরেন রায় রোডের বাড়িতেও তল্লাশি চালাল সিবিআই । তল্লাশি চালান হল তাঁর শিবরামপুর মারলিন এপার্টমেন্টে । সুত্রের খবর এই সান্টু গাঙ্গুলী আগে ছিল মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ ।পরে তাঁর সাথে ঝামেলা হওয়ায়, ঠাকুরপুকুর থানায় মুকুল রায়ের নামে অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূলে যোগদান করে এই সান্টু গাঙ্গুলী ।বিভিন্ন সময় টাকা সান্টুর কাছে আসত, এবং তার মারফত অন্যান্য প্রভাবশালীদের কাছে এমনকি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও সেই টাকা পৌঁছে যেত বলে জানা গেছে ।

অন্যদিকে কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের দুটি বাসস্থানে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই । সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের একটি ফ্ল্যাট ও একটি বাড়ি, রাধারাণী ও ত্রিবেণী অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালায় সিবিআই ।সকালে সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িতে সিবিআইয়ের আধিকারিকরা আসেন । এর প্রায় ঘন্টা দেড়েক পর সিবিআইয়ের আধিকারিকরা সুজয় কৃষ্ণের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ১০০ মিটার দুরের ত্রিবেণী এপারমেন্টের গ্রাউন্ড ফ্লোরের ফ্ল্যাটে যান । সুজয় কৃষ্ণের স্ত্রী সেই ফ্ল্যাটের চাবি খুলে আবারও সুজয় কৃষ্ণের বাড়িতে চলে আসেন । ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয় কৃষ্ণের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত তাপস মণ্ডল ও তারপর গোপাল দলপতি ।

সুজয়কৃষ্ণকে আগেও সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছিল । পরে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্কের নথিও চেয়ে পাঠানো হয় । সেই সব নথি তিনি আইনজীবী মারফত সিবিআইকে জমা দিয়েছেন বলেও সুজয়কৃষ্ণ দাবি করেছিলেন । ইডির হাতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সুজয়কৃষ্ণের লেনদেনের একটি সূত্র তদন্তের সময় উঠে আসে । সেই লেনদেনের কথা তিনি নিজেও স্বীকার করে নিয়েছিলেন । সুজয়কৃষ্ণ জানিয়েছিলেন, শান্তনুর স্ত্রীর সংস্থাতে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি । ব্যবসা করার জন্য ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি জমি তিনি শান্তনুর থেকে কিনেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন ।সেই টাকা তিনি দিয়েছিলেন চেকের মাধ্যমে ।

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক সুকান্ত আচার্যের বাড়িতে এই প্রথমবার হাজির হয় সিবিআই । এসএসসি উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি । বাগ কমিটির রিপোর্টেও নাম ছিল তাঁর । সুকান্ত বাড়িতে থাকায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । ইতিমধ্যেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই উপদেষ্টা কমিটির প্রত্যেকটি সদস্যের ভূমিকা সুস্পষ্টভাবে জানা গেছে । সেখান থেকে সিবিআই জানতে পেরেছে, বিভিন্ন সুপারিশকারীর নাম সুকান্ত আচার্যের মাধ্যমে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যেত ।  তার ব্যারাকপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই এও দেখছে যে শেষ কয়েক বছরে তার সম্পত্তির পরিমাণ ঠিক কতটা বেড়েছে ।

রেহাই পাননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ওএসডি প্রবীর ব্যানার্জি ও ব্যারাকপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়দীপ দাসও ।সবটা মিলিয়ে আজকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের যারা ঘনিষ্ঠ ও যাদের নাম চার্জশীটে রয়েছে কিংবা যারা তার আপ্ত সহায়ক তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআইয ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube