মদ্যপ অবস্থায় কলেজে ঢুকলেন অধ্যক্ষ !

রাতের অন্ধকারে মদ্যপ অবস্থায় কলেজে ঢোকার অভিযোগ উঠলো অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে । অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়ি আনন্দ চন্দ্র কলেজ অফ কমার্সের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ যখন কলেজ থেকে বেরিয়ে আসতে যান সেই সময় তাকে গেটের ভেতরে আটকে রেখে বাইরে বিক্ষোভ দেখান ওই কলেজের অধ্যাপক থেকে শুরু করে অশিক্ষক ও কলেজের প্রাক্তনীরা। দাবি ওঠে ব্রেথ অ্যানালাইজার এনে অধ্যক্ষের স্বাস্থ্য পরীক্ষার করার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কোতয়ালি থানার পুলিশ। অন্যদিকে অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, ‘আমি মদ্যপ অবস্থায় কলেজে আসিনি। পরীক্ষার করলেই তার প্রমাণ মিলবে’। কিন্তু এত রাতে কলেজে কেন এসেছিলেন অধ্যক্ষ? উত্তরে সিদ্ধার্থ বাবু বলেন, ‘আমি একজন অধ্যক্ষ যেকোন সময়ে কলেজে আসার অধিকার আমার রয়েছে। কলেজে কোন নিরাপত্তারক্ষী নেই যে কারণে রাতের কলেজ ঠিকঠাক রয়েছে কি না দেখতে এসেছিলাম।’
অন্য দিকে এদিন অধ্যক্ষর ঘরের বাইরে কলেজে জুড়ে মহিলা কর্মীদের কটুক্তি করা হলো কেন প্রিন্সিপাল জবাব দাও সহ কলেজের একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোস্টার ফেলা হয়। পুজোর ছুটিতে কলেজ বন্ধ থাকা কালীন কিভাবে কারা এই পোস্টার কলেজের দেওয়ালে টাঙিয়েছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। শুক্রবার বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষের নজরে আসতেই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন। অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলেজে।
কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, ‘আজ কলেজে আসতেই এই বিষয়টি আমার নজরে আসে। আমি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনকে জানিয়েছি। কলেজ বন্ধের সময় এগুলো করা হয়েছে। কলেজের নিরাপত্তা রক্ষীকেও ভয় দেখানো হয়েছে। তিনি কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। সমস্ত তথ্য আমার কাছে রয়েছে। এটি নিয়ে তদন্ত শুরু হলে সমস্ত প্রমাণ তুলে ধরবো’।
দীর্ঘ দিন ধরেই কমার্স কলেজে একটা অস্থিরতা চলছে। কখনো শিক্ষকরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। আবার কখনো অধ্যক্ষ কলেজের শিক্ষক অশিক্ষক কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাচ্ছেন। গত পাঁচ মাস ধরে চলে আসা এই অস্থির পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা। পড়াশুনার পরিবেশ কার্যত নষ্ট হতে বসেছে এই কলেজে। মাস খানেক আগে পরিচালন সমিতির এক রিপোর্টের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এসেছিল তদন্ত করতে। দুইদিন ধরে কলেজের সমস্ত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের পাশপাশি অধ্যক্ষের সঙ্গে সামগ্রীক বিষয় নিয়ে কথা বলেন তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে পুজোর ছুটির জন্য প্রায় ১ মাস ধরে কলেজ বন্ধ। সম্প্রতি মুনলাইট ক্লাবের কালীপুজাকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয় কমার্স কলেজকে ঘিরে। দীর্ঘ বছর ধরে মুনলাইট ক্লাব কমার্স কলেজের মাঠেই পুজো করে আসছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। কিন্তু এবছর কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সেখান মন্ডপ তৈরি করে পুজো করেছে মুনলাইট ক্লাব বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও মুনলাইট ক্লাবের কর্তাদের দাবি কলেজ পরিচালন সমিতি তাদের পুজো করার অনুমতি দিয়েছিল। তার ভিত্তিতেই তাঁরা পুজোর আয়োজন করেছেন। এই বিতর্ক না কাটতেই কলেজের ভেতর অধ্যক্ষের কাছে জবাব চেয়ে পোস্টারকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সাদা কাগজে কম্পিউটার প্রিন্ট করে পোস্টারগুলো তৈরি করা হয়েছে। কে বা কারা অধ্যক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব চাইছেন তার কোন উল্লেখ নেই সেই পোস্টারে। তবে কলেজে ছুটি থাকা কালীন পুজো হয়েছে কলেজ প্রাঙ্গণে। যেখানে উদ্যোক্তাদের পাশপাশি অনেক দর্শনার্থী ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু যেখানে পুজো হয়েছে আর পোস্টার যেখানে দেওয়াল শাটা হয়েছে তার দূরত্ব কাছাকাছি হলেও সেখানে পৌছানো কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। এরই মধ্যে এদিন রাতে কলেজে অধ্যক্ষ ঢোকা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। জানা গিয়েছে অধ্যক্ষ তার ফ্ল্যাটের এক নিরাপত্তা রক্ষীকে নিয়ে রাতে সাড়ে আটটা নাগাদ কলেজে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানাজানি হতে কলেজের গেটে হাজির হয়ে যান কলেজের অধ্যাপক থেকে শুরু করে অশিক্ষকরার। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে হাজির হন কলেজের প্রাক্তনীরাও। কি কারণে রাতে অন্ধকারে অধ্যক্ষ কলেজে ঢুকেছেন জানতে চান সকলেই। এই প্রসঙ্গে মুনলাইট ক্লাবের সম্পাদক তথা কলেজের প্রাক্তনী প্রতাপ দাম বলেন, ‘কলেজের দোতালার সিঁড়ি দিয়ে ওপরে যাওয়া তো দূরের কথা নীচের বারান্দাতেও ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নীচের বারান্দায় ওঠার যে বড়ো লোহার গেটটি ছিল সেটে তালা বন্ধ ছিল। যেকারণে এই পোস্টার লাগানোর ঘটনার সঙ্গে ক্লাব কোন ভাবেই যুক্ত নয়। এদিন প্রমাণ হয়ে গিয়েছে কে পোস্টার লাগিয়েছে। আমরা মনে করি অধ্যক্ষ নিজে এই কান্ড করে অন্যের নামে দোষ দিচ্ছেন। রাতের অন্ধকারে একজন অধ্যক্ষ মদ্যপ অবস্থায় কলেজে ঢুকছে এটা একজন প্রাক্তনী হিসেবে আমর লজ্জা লাগছে’। কলেজের বড় বাবুর রাজীব চৌধুরী বলেন, ‘অধ্যক্ষ রাতের অন্ধকারে মদ্যপ অবস্থায় কলেজে ঢুকে এই পোস্টারগুলো লাগিয়েছেন। আর নাটক করে অন্যের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছেন। কলেজের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা ওনার অপসারণ চাই। অধ্যক্ষ যে মদ্যপ তাঁর সাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করার জন্য আমরা পুলিশকে লিখিত ভাবে জানাবো। শুক্রবার রাত ১২ টা ৩০ পর্যন্ত অধ্যক্ষ রাতে কলেজের গেটের ভেতর আটকে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।পরে পুলিশ তাকে থানায় উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube