আর অপেক্ষা নয়, ১৩ দিন সাইকেল চালিয়ে বিহার থেকে বাংলায় ফিরলেন যুবক

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : লকডাউন উঠলেই বাড়ি ফিরবেন। ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লকডাউন ঘোষণার পর এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লকডাউন ওঠা তো দূরস্ত, বরং তা বাড়তেই থাকে। তারপর কোন উপায় না পেয়ে বিহার থেকে সাইকেলে করে বাংলায় নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন সফিকুল মণ্ডল। দীর্ঘ ১৩ দিন সাইকেল চালানোর পর এবশেষে বাড়ির কাছাকাছি এসে দেগঙ্গা থানার সামনে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পুলিশকর্মীরা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর কাছে সমস্ত বৃত্তান্ত জানতে চায় পুলিশ। ওই পরিযায়ী শ্রমিকের কথা শুনে চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশ অফিসারদের।

 সফিকুল মণ্ডল নামের ওই পরিযায়ী শ্রমিক জানান, তাঁর বাড়ি দেগঙ্গার অম্বিকানগরে। সেখানেই এতদিন চাষের কাজ করতেন তিনি। কিন্তু দুই ছেলে ও স্ত্রীর সংসারে টানাটানি হওয়ায় লকডাউনের দিন কয়েক আগে বিহারে ঝাঁটার কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। লকডাউনের জেরে সেখানের আটকে পড়েন। প্রথম কয়েকদিন মজুত করা খাবার থেকে চলে গেলেও পরে পেট চালানো দায় হয়ে পড়ে। তখনই নিজের বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন সফিকুল। শুধু জল আর বিস্কুট খেয়ে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ১৩ দিন সাইকেল চালিয়ে যান তিনি। কোন সময় ক্লান্ত হয়ে গাছের তলায় শুয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন। কখনও বিশ্রাম নিচে গিয়ে চরম হারাননির শিকারও হতে হয়েছে তাঁকে। মারধর করে তাড়িয়েও দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারেননি তিনি। বাড়ির কাছে এসেই মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যান।  

প্রাথমিক চিকিৎসার পর সফিকুল খাবার দেন দেগঙ্গা থানার পুলিশ তারপর বিশ্বনাথপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় করোনা পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার পর তাঁকে বাড়িতেও পৌঁছে দিয়ে আসে পুলিশ। সফিকুল কথায়, “প্রথম কয়েকদিন ঘরে মজুত করা কিছু খাবার দিয়ে চলে যায়। এরপর একজন এসে দু’কেজি চাল দিয়ে গিয়েছিল। তার পর থেকে কোনও ত্রাণ পাইনি। ভেবেছিলেন কষ্ট করে কয়েকদিন চালিয়ে লকডাউন উঠতেই বাড়ি ফিরে যাব। কিন্তু লকডাউন উঠলো না। বেড়েই চলেছে।” তখনই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু লকডাউনের জেরে তো বন্ধ সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। সফিকুল বলেন, “কারখানার সামনে যে চায়ের দোকানে চা খেতাম তিনি আমার অবস্থা দেখে এগিয়ে এলেন। নিজের সাইকেল দিয়ে বললেন এটি নিয়ে বাড়ি যাও। আবার যদি কখনও ভাল দিন আসে, তখন ফেরত দিয়ে যেও।” 

দীর্ঘ ১৩ দিনের যাত্রা প্রসঙ্গে সফিকুল বলেন, “২৭ এপ্রিল থেকে সাইকেলে করে মধুবনি থেকে আমি যাত্তা শুরু করি। এই ১৩ দিন জল আর বিস্কুট ছাড়া কিছু জোটেনি। মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েও কোথাও পাইনি। উলটে পশুর মতো আচরণ করেছে কিছু মানুষ। ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছি। হঠাৎ লোকজন এসে চিৎকার শুরু করে। কিছু সোনার আগেই মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। তেষ্টায় গলা ফেটে যাচ্ছে। অথচ জল চেয়েও পাইনি। কোথাও কোথাও দূরপাল্লার গাড়ির চালকরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এক এক সময় মনে হচ্ছিল হয়তো বাড়ি ফিরতে পারব না।”

 

 

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube