চিঠির জবাব! রাজ্যপালকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে লকডাউনে রাখার অনুরোধ মহুয়ার

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :  করোনা আবহেও অব্যাহত রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। সাংবিধানিক প্রধানের ভূমিকায় নিয়ে বৃহস্পতিবার ৫ পাতার একটি চিঠি রাজ্যপালকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির উত্তরে শুক্রবার ফের প্রশাসনিক প্রধানের কাছে ১৪ পাতার চিঠি এল সাংবিধানিক প্রধানের তরফে। রাজ্যপালের এই চিঠিতে রয়েছে মোট ৩৭ টি পয়েন্টে। যার প্রতিটিতে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর। ধনকড় তাঁর পাঠানো চিঠিতে করোনা নিয়েও মমতাকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। রাজ্যপালের চিঠি পাওয়ার পর এখনও কোনরকম প্রতিক্রিয়া জানানি মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এবার সুর চড়াতো শোনা গেল তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে।

১৪ পাতার এই চিঠিতে একদিকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুসলিমদের তোষণ করার অভিযোগ যেমন তুলেছেন তেমনই অন্যদিকে তিনি দাবি করেছেন, ‘করোনা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাজ্য সরকার।’ তিনি রাজ্যের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে লেখেন, শুধুমাত্র সকলের চোখ এড়াতে রাজনীতি করা হচ্ছে। একইসাথে মুসলিম তথা সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতিও চালাচ্ছে সরকার। করেনা নিয়ে তথ্য গোপন করা হচ্ছে। আমার ভাষা সম্পর্কে আপনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। আপনি বলছেন রাজ্যপাল মনোনীত, রাজ্যপাল মনোনীত নন, রাজ্যপাল নিযুক্ত। সংবিধান মেনেই রাজ্যকে কাজ করতে হয়। কিন্তু সেখানে আমাকে অন্ধকারে রেখেই সমস্ত কাজ করা হচ্ছে।” এরপরেই ট্যুইট করে রাজ্যপালকে আক্রমণ শানালেন মহুয়া। নরেন্দ্র মোদী ও এমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে এদিন তিনি ট্যুইটে লেখেন, ‘মোদী-শাহ একটা উপকার করুন। এই ভদ্রলোককে দিল্লি নিয়ে যান ও লকডাউনে রাখুন।’

তৃণমূল সাংসদ লেখেন, ‘আমরা এখন একটা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। রাজভবনকে খুশি করতে এবং তার অ্যাসাইমেন্ট করার জন্য এত সময় কারও হাতে নেই।’ এখানেই শেষ না করে মহুয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে  অনুরোধ জানান তাঁরা যেন রাজ্যপালকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে লকডাউনে রাখেন। 

 

 

 

 

শুক্রবার মহুয়া ট্যুইট করে কড়া ভাষাতেই লেখেন,
শুক্রবার পাঠানো দ্বিতীয় চিঠিতে করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল। শুক্রবারের পাঠানো দীর্ঘ চিঠিতে ৩৭টি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন তিনি। করোনা প্রসঙ্গের পাশাপাশি, রাজ্যে এর আগে ঘটা আরও নানা প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপাল তাঁর চিঠিতে মমতার উদ্দেশে লিখেছেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আপনি ব্যর্থ। কৌশলে দৃষ্টি ঘোরাচ্ছেন। আপনি সংখ্যালঘুদের তোষণ করছেন। আপনাকে নিজাউদ্দিনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আপনি বলেন এই প্রশ্ন সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন। যা একেবারেই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি আপনার অন্তরাত্মার কথা শুনুন। আপনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। সুপ্রিম কোর্টও তাই বলে। আপনি সংবিধান অবমাননা করেছেন।’

রাজ্যপাল আরও বলেন ‘আপনি তথ্য লুকাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় দল এ রাজ্যে কাজ করতে পারছে না। আপনি চিঠিতে আম্বেদকরের কথা বলছেন। আবার সংবিধানকে আপনি অবজ্ঞা করছেন। এর থেকে বড় পরিহাস আর হয় না। আপনার ব্যর্থতা ঠেকাতে চিঠিতে অজুহাত দিয়েছেন। মাইক,ঝাঁটা হাতে মুখ্যমন্ত্রীকে মানায় না। নাটক করা ছেড়ে কাজ করুন।’ রাজভবনে তাঁর একটি বন্ধু রয়েছে এ কথা মমতাকে মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল বলেছেন, মানুষের স্বার্থে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চান।

ফলে রাজ্যপালের ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে এবার পালটা আক্রমণের রাস্তাতেই হাঁটতে শুরু করল তৃণমূল। যা নিয়ে তোপ দেগেছে বিরোধীরাও। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘২ পাতার বদলে ৫ পাতা, তার বদলে আবার ৫ পাতার চিঠি। তারপর আবার ১৪ পাতার চিঠি। এটা কোনও কাজের কথা নয়। করোনায় মানুষ এখন অসহায়। সেদিকে নিয়ে আলোচনা নেই। কথা নেই। দুঃখজনক বিষয়।’

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube