অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, ভারতীয়দের জন্য বিশেষ বার্তা হাই-কমিশনের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশ জুড়ে অশান্তির ছায়া । সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সপ্তাহের প্রথম দিন থেকে দেশের বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । হিংসায় ৬ জনের প্রাণহানীর পাশাপাশি, আহত শতাধিক । অগ্নিগর্ভ ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ স্কুল, কলেজ ও সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।

একদিকে লাঠি হাতে আন্দোলনকারীরা । অন্যদিকে, সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর দাপাদাপি । তাদের লক্ষ্য করে লাগাতার উড়ে আসছে ইট ও পাটকেল । পাল্টা নিরাপত্তা বাহিনীর দিক থেকে শোনা যাচ্ছে গুলি-বোমার শব্দ । বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিক্ষোভের এই ছবি, রীতিমত চমকে দিয়েছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রধান প্রধান শহরে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে হাসিনা সরকার ।

এই অশান্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন । তাদের তরফে অ্যাডভাইসরি রিপোর্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য এবং বাংলাদেশে পড়তে আসা পড়ুয়াদের বাইরে না বেরনোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে । পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিজেরা নিজেদের স্থানে থাকুন । কোথাও ভ্রমণের জন্য বের হবেন না’ ।

একইসঙ্গে হাই কমিশন জানিয়েছেন, কোনও রকম জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে, বাংলাদেশের ভারতীয়রা যেন অবশ্যই হাই কমিশন এবং অ্যাসিসট্যান্ট হাই কমিশনের সঙ্গে এমার্জেন্সি নম্বরে যোগাযোগ করে । বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার অ্যাসিসট্যান্ট হাই কমিশনের এমার্জেন্সি নম্বরগুলিও প্রকাশ করা হয়েছে । নম্বরগুলি হল – ঢাকা- ৮৮০-১৯৩৭৪০০৫৯১, রাজশাহি- ৮৮০-১৭৮৮১৪৮৬৯৬, চট্টগ্রাম- ৮৮০-১৮১৪৬৫৭৯৭/ ৮৮০-১৮১৪৬৫৪৭৯৯, সিলেট- ৮৮০-১৩১৩০৭৬৪১১, খুলনা- ৮৮০-১৮১২৮১৭৭৯৯ । প্রতিটি নম্বরে হোয়াটঅ্যাপও করা যাবে বলে জানিয়েছে হাই কমিশন ।

আন্দোলনকারীদের দাবি, এই সংরক্ষণের জন্যই সরকারি চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না সাধারণ মেধাবীরা । অন্যদিকে, হাসিনা সরকারের বক্তব্য, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতেই তাঁদের পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত । সংরক্ষণ বাতিলের দাবিতে সোমবার প্রাথমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন শুরু হয় । ঢাকার পাশাপাশি, চট্টগ্রামের মুরাদপুরেও কোটা আন্দোলনে সামিল শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হয় । একইভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে ছাত্র লিগের সদস্যদের ।

সোমবারের পর মঙ্গলবারও অশান্ত ছিল বাংলাদেশ । সংঘর্ষের জেরে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে মোট ছ’জন ছাত্র নিহত হন । এরপরেই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও তীব্র হয় । আন্দোলনে প্ল্যাকার্ড হাতে নবম শ্রেণীর পড়ুয়ারাও রাজপথে নামে ।
এদিকে বৃহস্পতিবারও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে । ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্বিবদ্যালয় চত্ত্বরে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ হয় । পুলিশের রবার বুলেটে দশ জন আহত হন বলে খবর পাওয়া গেছে । সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামেও । রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের অন্যান্য শহরে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি যানজটে কার্যত অবরুদ্ধ । কয়েকটি জায়গায় টোল প্লাজায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে । কোটা বিরোধী আন্দোলনের পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে একাধিক সংগঠন ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube