মাঝরাতে আর্জেন্টিনার রাস্তায় মানুষের ঢল

অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে নিত্য লড়াই। শেষপর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে স্বস্তির বাতাস হয়ে এসেছে ফুটবল দলের কোপা আমেরিকা জয়। লিওনেল মেসি, আনহেল দি মারিয়াদের ট্রফি নিশ্চিতের পর, রাজধানী শহর বুয়েনেস এয়ারর্সে নেমেছে মানুষের ঢল।
ফ্লোরিডার সঙ্গে বুয়েনেস এয়ারর্সের সময়ের পার্থক্য মাত্র এক ঘণ্টার।

টিকিট না পাওয়া দর্শকদের বিশৃঙ্খলার কারণে ফাইনাল ম্যাচটি পিছিয়ে যায় প্রায় দেড় ঘণ্টা। পরে মূল ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হওয়ায়, খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সব মিলিয়ে ম্যাচ শেষ হতে হতে বুয়েনেস এয়ারর্সের ঘড়ির কাঁটা রাত ১টা ছুঁয়ে ফেলে। কিন্তু তাতে কী! চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুশিতে রাতের অন্ধকারকে রঙিন করে তোলেন হাজার হাজার মানুষ। নাচ-গান আর আনন্দ-উল্লাসে রাত ৩টের পরেও রাজধানীকে জাগিয়ে রেখেছিল আর্জেন্টিনার মানুষ। হার্ড রক স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের করা গোলে কোপা আমেরিকার খেতাব নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপসহ চার বছরের মধ্যে এটি তাদের তৃতীয় বড় খেতাব। মাঝে ইতালির বিপক্ষে ফিনালিস্সিমাও জিতেছিল তারা।

৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হয় ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর। সেবারও লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছিল বুয়েনেস এয়ারর্সের রাজপথে। এবার রেকর্ড ১৬ তম কোপা আমেরিকা জেতার পরেও ফিরে এল সেই চেনা ছবি। কনকনে শীতের রাতেও পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই নেমে এসেছেন রাজপথে। স্লোগানে-স্লোগানে আনন্দ উৎসবে কেঁপে ওঠে গোটা দেশ। বার্ষিক ৩০০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়তে থাকা সেদেশের মানুষের জন্য কোপা আমেরিকা জয় অনেক বড় উপহার। সংবাদ সংস্থাকে এমনটাই জানিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী পাওলো রুতস। তিনি বলেন, দেশের ফুটবলারদের কাছে আমরা এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারতাম না। প্রাত্যাহিক জীবনে দেশবাসীর অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তার মধ্যেও তাঁরা সকলকে আনন্দ দেওয়া যেন বন্ধ না করে।

কোপার ফাইনাল ম্যাচটি দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান আনহেল দি মারিয়া। ১১৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে জল। তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৩৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। তিনিও আছেন ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে। পায়ের চোটে ৬৪তম মিনিটে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়ে যান লিওনেল মেসি। পরে সতীর্থদের নৈপুণ্যে শিরোপা জেতার পর ট্রফি গ্রহণের সময় দি মারিয়া ও ওতামেন্দিকে ডেকে নেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ম্যাচ চলাকালীন মেসির চোখে জল দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি ১৭ বছর বয়সী দামিয়ান। অল্প কথায় তিনি প্রকাশ করেন নিজের উচ্ছ্বাস। বলেন, ‘মেসির চোখে জল দেখে আমিও কেঁদেছি। তবে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি এখন খুশি’।

স্বাভাবিকভাবেই ঠিক বিপরীত চিত্র কলম্বিয়ায়। সেখানে হতাশা আর মানসিক কষ্ট, যা শাকিরার নাচও ভোলাতে পারছে না। ২২ বছর বয়সী আইনের শিক্ষার্থী ফ্রাঙ্ক ওসপিনা অবশ্য আশা হারাচ্ছেন না। সংবাদ সংস্থাকে কলম্বিয়ার এই নাগরিক বলেন, তাঁদের আশা, দল শিগগিরই অন্য শিরোপা জিতে, দেশবাসীর দুঃখ ভুলিয়ে দেবে। আরও একজন বলেন, “আমাদের আরও ভালো কিছু প্রাপ্য ছিল। এটি হতাশার। তবে জয়ী শুধু একটি দলই হতে পারে এবং সেটি আর্জেন্টিনা। আমরা অন্য কোনও সময় জিতব’। কোথাও উচ্ছ্বাস তো কোথাও হতাশা। হয়ত ফুটবলের এটাই আসল ছবি, মাঠে ও মাঠের বাইরে।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube