বাইডেনকে নিয়ে এখনও উদ্বিগ্ন ডেমোক্র্যাটরা, এবার জল্পনায় পার্কিনসন রোগ

গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে গিয়ে জো বাইডেনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করেন পার্কিনসন রোগ বিশেষজ্ঞ। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই রোগে ভুগছেন কিনা, সেটা নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা।

সমালোচনা যেন পিছু কিছুতেই ছাড়ছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। প্রথমে প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেটে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপরীতে নড়বড়ে উপস্থাপনার পর ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ যেন চেষ্টা করেও কমাতে পারছেন না বাইডেন। তিনি পার্কিনসন রোগে ভুগছেন কিনা, সেটা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে পার্কিনসন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কেভিন কানার্ড হোয়াইট হাউজে বাইডেনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক কেভিন ও কনরের সঙ্গে দেখা করেন। সেদিন দুইজনের মধ্যে ঠিক কি কথা হয়েছিল, সেটা অবশ্য জানা যায়নি। তবে খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই, বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

ওদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কের পর বাইডেন তার দলের অন্দরে হতাশা এবং নেতা ও সমর্থকদের উদ্বেগ কমাতে, গত শুক্রবার রাতে সেদেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকার দেন। কিন্তু তাতেও দলের নেতাদের আস্থা ফিরেছে বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। মার্কিন পার্লামেন্ট বা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ – প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভস-এর আরও এক ডেমোক্র্যাট সদস্য মিনেসোটার ক্রেগ শনিবার বাইডেনকে প্রার্থী পদ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য বাইডেনকে এবারের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, তাঁর নির্বাচনী ডিবেট কেবল একটি ‘বাজে অধ্যায়’। তার জন্য ভোটের ময়দান থেকে তিনি সরবেন না। তাঁর দাবি, একমাত্র ঈশ্বর বললে, তবেই তিনি সরে যাবেন।

কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। যদিও দলের কোনও শীর্ষ নেতা তাঁকে পদত্যাগের কথা বলেননি। তবে কোনও কোনও সমীক্ষায় বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্পের ব্যবধান বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প এগিয়ে থাকলে, মার্কিন সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি প্রেসিডেন্সি ও নিম্নকক্ষে বেশকিছু আসন হারানোর আশঙ্কা করছেন অনেকে। ওই টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের কয়েক মিনিট পরে, টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য লয়েড ডগেট, যিনি প্রথমে প্রকাশ্যে বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সরে যাওয়া নিয়ে বাইডেন সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি করবেন, নতুন প্রার্থীর জন্য সামনে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারানো তখন ততটাই কঠিন হয়ে পড়বে।

ইলিনয়ের কংগ্রেস সদস্য মাইক কুইগলি এবং ম্যাসাচুসেটসের সেথ মৌলটনসহ অন্য হাউজের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা শুক্রবারই জো বাইডেনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন. বুধবার অ্যারিজোনার ডেমক্র্যোট সদস্য রাউল গ্রিজালভাও একই দাবি তুলেছিলেন. তবে ওই সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ২২ মিনিটের সাক্ষাৎকারে বাইডেন তার সহকর্মীদের কাছ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শের বিষয়টি সরাসরি খারিজ করে বলেন, এরকম কিছু ঘটবে, সেটা মনে করার কোনও কারণ নেই।

তিনি যে আরও এক দফা প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে সক্ষম, সেটা প্রমাণের জন্য বাইডেন নিজের শারিরীক ও মানসিক পরীক্ষা নিতে এবং জনসমক্ষে তার ফল প্রকাশ করতেও কুন্ঠিত নন। এক ধাপ এগিয়ে তিনি এও বলেন যে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য এবং নির্বাচনী দৌড়ে জয়ের জন্য তাঁর চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আর কেউ আছে বলে তিনি মনে করেন না।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube