বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন, ভরাডুবির শঙ্কায় ক্ষমতাসীনরা!
2 years ago 1 min read
নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :
দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন । এবারের ভোটে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির মাথাব্যথার বড় কারণ হল লেবার পার্টি । বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্রিটেনে ১৪ বছরের রাজত্ব এবার হারাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা । রেকর্ড ব্যবধানে জিততে চলেছে লেবার পার্টি । বিভিন্ন প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মোট আসন ৬৫০টি । একটি সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে যে লেবার পার্টি এবার ৪৮৪ আসনে জয় পেতে পারে । প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের আমলে ৪১৮ আসনে জয় পেয়েছিল লেবার পার্টি । ১৪ বছর ধরে ব্রিটেনে ক্ষমতায় রয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি । প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষার পূর্বাভাস বলছে, ক্ষমতাসীন দলটি এবার হয়ত ৬৪টি আসনে জয় পেতে পারে । যদি এমনটা হয়, তাহলে এটাই হবে এই দলের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক পরাজয় ।
কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বে ঋষি সুনাক
১৮৩৪ সালে ব্রিটেনে প্রতিষ্ঠিত হয় কনজারভেটিভ পার্টি । ব্রিটেনের অন্যান্য সমীক্ষাও বলছে, এবারের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবেই সরকার গঠন করবে । একই ইঙ্গিত দিয়েছে রেডফিল্ড ও উইল্টন স্ট্র্যাটিজির জনমত সমীক্ষা । তারাও দাবি করেছে, এবারে সরকার গড়ছে লেবার পার্টিই । বর্তমানে ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪৪ বছর বয়সী ঋষি সুনাক । ২০২২ সালে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার বয়স ছিল ৪২ । আধুনিক ব্রিটেনের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনাকই ।
লেবার পার্টির নেতৃত্বে স্যার কিয়ের স্টারমা
অন্যদিকে লেবার পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন স্যার কিয়ের স্টারমার । তাঁর বয়স ৬১ বছর । যুক্তরাজ্যে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ হয় পাঁচ বছরের । বিভিন্ন জনমত সমীক্ষার ফল সামনে আসার পর পরই, কনজারভেটিভ (টোরি) পার্টির প্রবল প্রতিপক্ষ লেবার পার্টি জনগণের উদ্দেশে সতর্কতার সঙ্গে বার্তা দিলেও, দলের অন্দরে রয়েছে আশা-উদ্দীপনার আমেজ । কারণ, লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার, যিনি একসময় ছিলেন মানবাধিকার আইনজীবী, তাঁর এবার আদালতকক্ষ থেকে সোজা দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে ।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক তাঁর নানা চ্যালেঞ্জে ভরা প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে সবচেয়ে বড় জুয়াটি খেলেছেন আগাম নির্বাচন ডেকে । কিন্তু জনমত সমীক্ষার রিপোর্টগুলিতে কনজারভেটিভ দলের সমর্থনে যে ধস দেখা গেছে, তার মোড় ঘোরাতে প্রধানমন্ত্রী সুনাককে হিমশিম খেতে হয়েছে । দলের জনপ্রিয়তা এতটাই তলানিতে যে কনজারভেটিভ পার্টির পরাজয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, দাবি সংবাদ সংস্থার । অথচ লেবার নেতা স্টারমার কিন্তু তেমন কোনও ক্যারিশমা এবং তারকাগুণ ছাড়াই, বিপুল জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে ।
অবশ্য আগের সব প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার থেকে শুরু করে জন মেজর কিংবা টনি ব্লেয়ারের মতো ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্ব কিয়ার স্টারমারের না থাকলেও, তিনি লেবার পার্টিকে নির্বাচনে জয় পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন । তিন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রীর নানা ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে লেবার দলকে একক দক্ষতায় ওপরে টেনে তুলেছেন স্টারমার । ভোটারদের বারবারই সেই সব ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি । আর এভাবেই বেশকিছু মানুষের মত বদলের কারিগর স্টারমার । লেবার নেতা করবিনের আমলে দলে যে ইহুদি বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিচ্ছিল, সেটাকেও তিনি সমূলে উপড়ে ফেলেছেন ।
বর্তমান সমীক্ষাগুলো তাঁর দলের জয়ের যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত কনজারভেটিভ দলের ১৪ বছরের শাসনের যবনিকার পতন হবে এবারই । আর সেই জায়গায় শুরু হবে প্রাক্তন ব্যারিস্টার কিয়ার স্টারমারের হাত ধরে লেবার পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন অধ্যায় ।
নির্বাচনী প্রচারে স্টারমার ভোটারদেরকে বার বার বলেছেন, ‘অপনারা পরিবর্তন চাইলে লেবারকে ভোট দিন । ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ আপনাদের হাতে । আমরা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারি । আমরা ব্রিটেনকে পুনর্গঠন করতে পারি’ । প্রধানমন্ত্রী সুনাকের নির্বাচন ঘোষণার পরপরই স্টারমার বলেছিলেন, এই ভোট দেশকে ভাল ভবিষ্যতের দিকে টেনে নেওয়ার একটি সুযোগ । হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবে না ।
অন্যদিকে, কনজারভেটিভ (টোরি) নেতারা বিভিন্ন প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভোটারদেরকে ‘স্লিপ ওয়াক’ না করা এবং লেবারকে ‘বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ভোটে না জেতানোরই আবেদন জানিয়েছেন । টোরিদের এই পাল্টা প্রচারের মুখে অবশ্য লেবার নেতারা মানুষের সমর্থন টানার জন্য খুব একটা ঔদ্ধত্য দেখাতে চাইছে না । তাই লেবার নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সতর্কভাবে পা ফেলছে । কিন্তু দলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভেতরে ভেতরে বেশ আশাবাদী । যদিও গত ছয় সপ্তাহে যে কোনও গড়বড় হয়নি তা নয় । তবে পার্টির নেতারা তারপরও সন্তুষ্ট যে, লেবার পার্টির প্রচারের যে মূল চালিকাশক্তি, সেটি লাইনচ্যুত হয়নি । জনমত সমীক্ষার ফল যদি মিলে যায়, তাহলে এবারের রেকর্ড ভোটে জিতে, ব্রিটেনে সরকার গড়ার পথে লেবার পার্টি ।