প্যালেস্তাইনের দখলে থাকা গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী । সংবাদ সংস্থা সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, উত্তরে গাজা নগরী, মধ্য গাজার নুসেইরাত আশ্রয় শিবির এবং দক্ষিণে খান ইউনিস ও রাফায় হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা IDF । পাল্টা ইজরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ । সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, প্যালেস্তিনীয়দের ওপর ইজরায়েলের নৃশংসতার ও বর্বরতার জবাবেই এই রকেট হামলা চালানো হয়েছে ।
অন্যদিকে ইজরায়েলি বাহিনীর দাবি, খান ইউনিস অতিক্রম করার সময় তারা প্রায় কুড়িটি ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করতে পেরেছে । যার মধ্যে অধিকাংশই ধ্বংস করা হয়েছে । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খান ইউনিসের পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকা ও মধ্য গাজার নুসেইরাত আশ্রয় শিবিরে ইজরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে । এছাড়া গাজা নগরীর শুজাইয়া এলাকাতেও সংঘর্ষ চলছে । সেখানে ইজরায়েলি ট্যাংকগুলি থেকে গোলা ছোড়া হয় । শুজাইয়ার প্যালেস্তিনীয় যোদ্ধাদের সঙ্গে ‘কঠিন লড়াই’ চলছে বলে জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহ ।
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, শুজাইয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে প্রায় ২০ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে । গাজায় স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৯ মাস ধরে চলা সংঘর্ষে উপত্যকায় অন্তত ৩৭ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছে । আহত কমপক্ষে ৮০ হাজার । হতাহতদের অধিকাংশই প্যালেস্তিনীয় নারী ও শিশু ।
এদিকে গাজা নগরীর আল-শিফা হাসপাতালের অধিকর্তা মোহাম্মদ আবু সালমিয়া সহ বেশ কয়েকজন প্যালেস্তিনীয় বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইজরায়েল । মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার একটি হাসপাতাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তাঁদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল । তাঁদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেল আভিভও ।
আল-শিফা হাসপাতালের অধিকর্তা মোহাম্মদ আবু সালমিয়া
গত নভেম্বরে আবু সালমিয়াকে আটক করে নিয়ে যান ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা । মুক্তির পর তিনি জানান, তাঁর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চলেছে । বন্দিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা ও লাঞ্ছনা করা হয়েছে । এমনকি তাঁদের খাবার ও ওষুধ পর্যন্ত দেওয়া হত না । জিজ্ঞাসাবাদের সময় বন্দি থাকা অবস্থায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে । ইজরায়েলের নির্বিচার হামলা ও অবরোধে গাজার বাসিন্দারাও চরম দুর্দশার শিকার । খাবার, জল, চিকিৎসা পরিষেবা ও জ্বালানির অভাবে সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ । গাজার মানুষ চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলকে বেশ কয়েক দফায় সতর্কও করেছে রাষ্ট্রসংঘ ।