।। স্নেহা চক্রবর্তী ।।
কম বয়সে বাড়ছে ব্রেন স্ট্রোকের প্রবণতা। এখন আট থেকে আশি সকলের মধ্যেই দেখা যায় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কাজ করে। দুশ্চিন্তা থেকেই আসে মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। আপনারও কি হয় এরকম? তাহলে আপনিও ডেকে আনছেন আপনার ক্ষতি। অতিরিক্ত চিন্তা থেকেই কম বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যেও এখন ঝুঁকি বাড়ছে এই ব্রেন স্ট্রোকের।
কি কি কারণে হয় ব্রেন স্ট্রোক ? জেনে নিন-
সাধারণত উচ্চরক্তচাপ থেকে ব্রেন স্ট্রোক দেখা যায়। এছাড়া আজকের দিনে ঘরে ঘরে অধিকাংশ মানুষই আক্রান্ত। তার সঙ্গে ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা যুক্ত হয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটায়। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ঠিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রয়োজন। যা রক্তনালির মাধ্যমে সরবরাহ হয়। যখন ব্রেনের মধ্যে রক্তনালি ফেটে যায় তখন মস্তিষ্ক ও খুলির মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধে। যা ব্রেনে খুব চাপ তৈরি করে এবং অক্সিজেন পৌঁছতে বাধা দেয়। এই কারণেই শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা তৈরি হয়।
কীভাবে বুঝবেন?
ব্রেন হেমারেজ বা স্ট্রোকের লক্ষণ হল, হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা অথবা মাথার একদিকে ব্যথা শুরু হওয়া যা সাধারণ মাথাব্যথা থেকে আলাদা ধরনের হবে।
এছাড়াও কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেমন-
হঠাৎ ভারসাম্য হারানো।
চোখ বা হঠাৎ চোখ ট্যারা হয়ে যাওয়া, একটা জিনিসকে দুটো দেখা, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া।
একদিকের মুখে বেঁকে যাওয়া।
হঠাৎ একদিকের হাত-পা পড়ে যাওয়া বা অসাড় হয়ে যাওয়া।
কথার স্বর জড়িয়ে যাওয়া।
সময়, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ যত তাড়াতাড়ি আমরা রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া যাবে তত দ্রুত রোগ নির্ণয় হবে ও রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
প্রথমেই কী করণীয়?
প্রাথমিক কোন লক্ষণ বুঝলে সবার প্রথম চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তারপর সিটি স্ক্যান করে চিকিৎসার ধাপগুলি নির্ণয় করা প্রয়োজন। চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে ধাপে ধাপে। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, কারও প্রেশার হাই থাকলে সেটা হঠাৎ নামানো যায় না। কমাতে হয় মস্তিষ্কের চাপ বা দুশ্চিন্তা। ডায়াবেটিস, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মাত্রা ঠিক রয়েছে কি না সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর হলে জ্বরের চিকিৎসাও করা দরকার। জ্বর না কমলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের অনেক বেশি ক্ষতি হয়।
কি কি করবেন না ? জেনে নিন একনজরে-
ধূমপান করবেন না, অ্যালকোহল বর্জন করুন, ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা উচিত। সব সময় চিন্তামুক্ত, সুস্থ জীবন যাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীর চর্চা, ওষুধ খাওয়া, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া। এগুলো সবসময় মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি বংশগত স্ট্রোকের ইতিহাস থাকে তাহলে তাঁকে আগে থেকেই হতে হবে সাবধান।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

