বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত শিশুরা । বিশেষ করে গাজা ভূখণ্ডে তো বটেই । তার জন্য ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে রাষ্ট্রসংঘ । যদিও তাদের এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে পাল্টা দাবি করেছেন রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান । তিনি বলেন, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে । শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে ১৪ জুন নিরাপত্তা পরিষদে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, তাতে এই তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তালিকায় হামাস এবং প্যালেস্তাইনের একাধিক ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র । তালিকাটিতে ছয় ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে । সেগুলি হল- হত্যা, পঙ্গুত্ব, যৌন সহিংসতা, অপহরণ, শিশুশ্রমিক নিয়োগ ও ব্যবহার, ত্রাণ সরবরাহে বাধা, এবং স্কুল ও হাসপাতালে হামলা । তবে ইজরায়েল, হামাস কিংবা প্যালেস্তাইনের ইসলামিক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় ।

ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে । গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে, হামাস অধিকৃত ভূখণ্ডে কমপক্ষে ৭,৭৯৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে । তবে গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার শিশু নিহত । অন্যদিকে ইজরায়েলের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য চাইল্ড-এর দাবি, ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলে হামাসের হামলায় ৩৮ শিশু নিহত হয়েছে । যুদ্ধবন্দি হওয়া ২৫০ জনের মধ্যে ৪২ জন শিশু ।

রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, মহাসচিব গুতেরেসের চিফ অব স্টাফ ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত এরদানকে নতুন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বিষয়টি ফোন করে জানিয়েছেন । পরে এরদান সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানান । তিনি বলেন, মহাসচিবের এই সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত লজ্জিত ও মর্মাহত । ইজরায়েলের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী । তাই এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল সন্ত্রাসবাদীদেরই সাহায্য করবে এবং হামাসকে উৎসাহিত করবে ।
রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র দুজারিক অবশ্য ভিডিওটির একটি অংশকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন । প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আন্তোনিও গুতেরেসের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি – ভার্জিনিয়া গাম্বা । প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের তালিকা যুক্ত করার লক্ষ্য হল, শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা । যারা শিশুদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে এবং যারা ব্যবস্থা নেয়নি- এই দুই ভাগে তালিকাটি বিভক্ত ।

ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেছেন, যারা শিশুদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি, সেই তালিকায় ইজরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হামাসের সমর্থনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে, রাষ্ট্রসংঘ নিজেদের ইতিহাসে একটি কালো তালিকায় যুক্ত করল ।

গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলে হামাসের হামলায় ১২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় । তারা ২৫০ জনেরও বেশি জনকে যুদ্ধবন্দি করে নিয়ে যায় । এরপর থেকে গাজায় ইজরায়েলের বোমা হামলায় অন্তত ৩৬,৭৩১ জন নিহত হয়েছে । এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক । আরও হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । এছাড়া ২৩ লক্ষ জনসংখ্যার অধিকাংশই ভিটেমাটি হারা ।
শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত ২০১৪ সালে গাজায় সংঘর্ষের সময় ইজরায়েল ও হামাসকে আইন লঙ্ঘনের তালিকায় যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন । এছাড়া ইউক্রেনে শিশুদের হত্যা ও পঙ্গু করা, স্কুল ও হাসপাতালে হামলা এবং শিশুদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে, গত বছর এই তালিকায় যুক্ত করা হয় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

